গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে ভারতকে হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। সিন্ধু নদীর পানির ভাগ যারা দিচ্ছে না তাদের হাত কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে গত বছর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নিহত হওয়ার পর, নয়াদিল্লি ঐতিহাসিক সিন্ধু পানিবন্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।
ভারতের এই অনড় অবস্থানের প্রতিক্রিয়াতেই এবার সুর চড়িয়েছে পাকিস্তান। এক সংবাদ মম্মেলনে পাকিস্তানের মন্ত্রী মালিক অভিযোগ করে বলেন, “ভারত পাকিস্তানের ভাগের পানি নিয়ন্ত্রণ করছে। পাকিস্তান কাউকেই নিজেদের ভাগের পানিকে বাধাগ্রস্ত করতে দেবে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, “পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনিই। পাকিস্তানে তিনি (মোদী) এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না।”
সিন্ধু চুক্তি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার ভারতকে নিশানা করেছে পাকিস্তান। তাতেই এবার নতুন সংযোজন ঘটালেন মালিক।
পাকিস্তানের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যার ৪০-৫০ শতাংশের কর্মসংস্থান কৃষির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ দেশের পুরো খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের ৫০ শতাংশ এবং অর্থনীতির ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।”
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মালিক বলেন, “যারা আমাদের ভাগের পানি দাবি করছে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।”
তিনি বলেন, “পাকিস্তান আগেই ঘোষণা করেছে যে, ইসলামাবাদকে পানি থেকে কেউ বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করবে।”
মালিকের দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের পানির ভাগ অক্ষুণ্ণ রাখতে দায়বদ্ধ। ভারত পানির প্রবাহ আটকে দিতে পারে না । মালিকের এই মন্তব্য পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে ভারত চুক্তিটি স্থগিত করার পর আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ করেছে পাকিস্তান।
সিন্ধু পানিবন্টন চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলোর মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর পানি ভারতের প্রাপ্য।
পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার পানিতে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে। কিন্তু পহেলগামে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই চুক্তি স্থগিত করে ভারত।
সম্প্রতি ভারতের জলশক্তি বিষয়কমন্ত্রী সিআর পাটিল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর জল প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তারপর চলতি মাসে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।