গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রথম দিনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে খামেনি নিহত হন। যুদ্ধের কারণে জানাজা তখন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের জন্য জানাজার নামাজ তেহরানের মোসাল্লায় শোক ও প্রতিশোধের আহ্বানকে একসঙ্গে মিশিয়ে এক রাজনৈতিক দৃশ্যপট তৈরি করে। রবিবার ভোরের আগেই বহু মানুষ মসজিদে জড়ো হয়ে সকাল ৮টায় নামাজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

কবি মোহাম্মদ রাসুলি নামাজের ঠিক আগে বলেন, ট্রাম্পকে হত্যার দায়িত্ব তাঁদের। তাঁর এই মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অধিকাংশ উপস্থিত মানুষ উচ্ছ্বসিতভাবে সাড়া দেন। আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত খলিল শিরগোলামি এক্সে লিখেছেন, মানুষকে হত্যা করা গেলেও আদর্শকে হত্যা করা যায় না। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলগাদর বলেন, মানুষ প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ—দুটি স্লোগানই একসঙ্গে দিচ্ছে।
কোমের ৯৭ বছর বয়সী আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি মূল জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন। খামেনির পাশাপাশি তাঁর পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির জন্যও নামাজ পড়া হয়। নাতনির ছোট কফিনটি অনুষ্ঠানের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

বাবার মৃত্যুর ১০ দিন পর সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত হওয়া মোজতাবা খামেনি গত তিন মাসে জনসমক্ষে আসেননি বা কোনো অডিও বার্তাও দেননি। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রীর জানাজাতেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর তিন ভাই মোস্তফা, মাসুদ ও মেইসাম বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হামলায় মোজতাবা আহত হয়েছিলেন, তবে স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ইরান সরকারের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে জানাজায় হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা রয়েছে। আল-কুদস বাহিনীর কমান্ডার ইসমাইল কাআনি ও আইআরজিসি কমান্ডার আহমাদ ভাহিদিও প্রকাশ্যে উপস্থিত ছিলেন, যা যুদ্ধের শুরুর দিকে কল্পনাতীত ছিল। এর মধ্যেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত লরা লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাজাকে “টার্গেট-সমৃদ্ধ পরিবেশ” আখ্যা দেন, আর রক্ষণশীল ভাষ্যকার মার্ক লেভিন একে “হাতছাড়া হওয়া সুযোগ” বলে মন্তব্য করেন।

আয়োজকদের দাবি, জানাজার প্রথম দিনে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। মঞ্চে শোকার্ত মানুষেরা নিহত নেতার প্রতি ভালোবাসা ও নতুন নেতার প্রতি আনুগত্যের বার্তা লিখে রাখেন, যার একটিতে ইংরেজিতে লেখা ছিল “ট্রাম্পকে হত্যা করো”। ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরমেও লাল পতাকা হাতে জনতা “কোনো আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়, শুধু প্রতিশোধ” স্লোগান দেয়। কেউ কেউ শাহাদাতের প্রতি নিজেদের প্রস্তুতি বোঝাতে সাদা কাফনের কাপড় পরে অংশ নেন।
৭০ বছর বয়সী অনুবাদক হুসাইন দেহগান বলেন, নেতার হত্যাকাণ্ডের পর মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংহতি তৈরি হয়েছে। আরেক বাসিন্দা ইব্রাহিম কলিম বলেন, ইসরায়েলি বোমা হামলায় তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান এবং রাতভর বোমার শব্দ গোনার অভিজ্ঞতার কথা জানান।
সোমবার তেহরানে একটি গণমিছিলের মধ্য দিয়ে জানাজার কার্যক্রম চলবে, এরপর মরদেহ কোম, তারপর ইরাকের দুটি পবিত্র শহর এবং সবশেষে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে সমাহিত করা হবে। এদিকে ট্রাম্প শোকার্ত মানুষদের কান্না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি ভেবেছিলেন তারা খামেনিকে ঘৃণা করে, এমনকি এই কান্নাকে “নকল” বলেও মন্তব্য করেন।