কালীগঞ্জে মাদক নির্মূল কমিটি গঠনে ফাঁকা গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কারাগারে

ঘটনার সময় গাড়ির মহড়ায় ও ঘটনাস্থলে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য উঠে এসেছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের তখনকার অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

কালীগঞ্জে মাদক নির্মূল কমিটি গঠনে ফাঁকা গুলি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কারাগারে

নিজস্ব সংবাদদাতা 

কালীগঞ্জে মাদক নির্মূল কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

বুধবার (১৫ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মাসুদুল হাসান শামীম (৩৮)। তিনি উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান এলাকার মো. হাফিজুল ইসলামের ছেলে এবং কালীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন পোটান এলাকার মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন (৫০) ও তার ছেলে আবিদ (২২), নোয়াপাড়া এলাকার ইসমাইলের ছেলে শাহিন (২৫), বাঘুন এলাকার সেলিম (৩৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন।

মামলার বাদী পোটান এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান নাঈম (৩০)। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, বড়হড়া ও পোটান গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদে বেড়ে ওঠা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাওলানা মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করেন। কমিটি ইতিমধ্যে এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১১ জুলাই) নোয়াপাড়া এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে রোমানকে (৩০) ২০৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন কমিটির সদস্যরা। সে সময় তার দুই সহযোগী আবিদ ও শাহিন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পরদিন রবিবার (১২ জুলাই) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয় (মামলা নম্বর ১৯(৬)২৬)।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার পর থেকে পলাতক আসামিরা ও তাদের সহযোগীরা মাদক নির্মূল কমিটির কার্যক্রম বিঘ্নিত করতে সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। মামলা থেকে জামিন করানো এবং মাদক ব্যবসায় ক্ষতিপূরণ বাবদ কমিটির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করা হয়।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নোয়াপাড়া চৌরাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সভার ডাক দেন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এজাহার অনুযায়ী, ওই প্রতিবাদ সভা যাতে সফল না হয়, সে জন্য অভিযুক্ত রুহুল আমিন ও তার ছেলে আবিদের নেতৃত্বে কয়েকটি মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলযোগে বিকেল ৪টার দিকে মোক্তারপুর ইউনিয়ন এলাকায় মহড়া দেওয়া হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নোয়াপাড়া চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছে মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এ সময় অভিযুক্তরা কমিটির সদস্যদের নাম ধরে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় গাড়ির মহড়ায় ও ঘটনাস্থলে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য উঠে এসেছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের তখনকার অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অবস্থান নিশ্চিত হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহীম শেখ গ্রেপ্তার আসামি মাসুদুল হাসান শামীমকে আদালতে পাঠানোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, জামিনে মুক্তি পেলে তার পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তিনি।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার মাসুদুল হাসান শামীমকে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।