গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় খালে গোসল করতে নেমে চার শিশু মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে, মাদ্রাসায় বিরতির সময় ছয়জন শিক্ষার্থী পাশের একটি খালে গোসল করতে নামে।
তাদের মধ্যে দুজন সাঁতরে পাড়ে উঠে আসে এবং বাকিদের ডুবে যাওয়ার খবর দেয়। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় একে একে চারজনকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু ততক্ষণে তারা মারা গেছে।
নিহত চার শিক্ষার্থী হলো- বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার দুই মেয়ে আয়েশা (৯) ও জান্নাত (৮), এবং বিল্লাল হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া।
পুলিশ বলছে, তারা সবাই স্থানীয় গাউসিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল।
তাদের মধ্যে তিনজনকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অপর একজনের মরদেহ রাখা আছে তার বাড়িতেই।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশরাফুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বেলা ১টার দিকে তিন শিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তখন তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃদস্পন্দন—কোনোটাই পাওয়া যায়নি।
“মেয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে”
মেয়ে তাবিয়াকে হারানো শামীম মিয়া হাসপাতালের এক কোণে বসে ছিলেন কান্নাজড়িত অবস্থায়।
তিনি বলেন, সকালে কাজের উদ্দেশ্যে তিতাস ট্রেন ধরতে বাড়ি থেকে বের হয়ে রায়পুরা বাজারে যান তিনি। তখনই বাড়ি থেকে ফোন আসে যে তার মেয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি।
ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় দুই শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে বলে শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আগের সংস্করণে যে অসামঞ্জস্যের কথা বলেছিলাম, সেটা এখানেও রয়ে গেছে—চারজনের মৃত্যুর তথ্য আর ওসির শেষ বক্তব্য মিলছে না। মূল কপিতেই এই গরমিল ছিল বলে অপরিবর্তিত রেখেছি।