প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী মাসে

কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রবাসফেরত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কার্ডধারীদের।

প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী মাসে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড–সংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ডে প্রবাসীদের জন্য থাকবে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, তাঁদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া এবং ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া।

নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের একটি অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম।

উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশে-বিদেশে বিনা মূল্যে বিমানবন্দর লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিনা মূল্যে মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডে বিমানবন্দরে পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে থাকবে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে মিলবে ছাড়ের সুবিধা।

প্রতীকী ছবি

কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রবাসফেরত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বিমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কার্ডধারীদের। থাকবে রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানোসহ সহজ লেনদেনের ব্যবস্থা। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায়ও অগ্রাধিকার পাবেন প্রবাসী কার্ডধারীরা, পাশাপাশি মিলবে ব্যাংক ও সরকারের অন্যান্য সুবিধা।

শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। সভায় জানানো হয়, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সভায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বজুড়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা যাতে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসেন, সে বিষয়েও নজর রাখতে বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্র: বাসস