গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান

গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, তবে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাজপথে এভাবে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আপনারা যেভাবে ধাক্কায় ধাক্কায় আমাদেরকে রাজপথের দিকে দিচ্ছেন, রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল বলেছিল অধিকাংশ জনগণ যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। আমরাও বলেছি, তারাও বলেছেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। কিন্তু ‘হ্যাঁ’ যখন বিজয়ী হলো, যেভাবেই হোক মেকানিজম করে তারা যখন ক্ষমতায় চলে গেলেন, তখন ‘হ্যাঁ’-র কথা তারা ভুলে গেলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন তারা বলছেন—আমরা কখনো সংস্কারের কথা বলি নাই। না না বন্ধুরা আপনারা সত্য বলছেন না, আপনারা মিথ্যা বলছেন। কারণ আপনাদের ৩১ দফা সংস্কারের দাবির প্রথম দফাই হচ্ছে সংস্কার। এখন বলেন যে সংস্কার কী জিনিস বুঝি না। আসেন আমরা সংবিধান সংশোধন কমিটি করি।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘সংসদের ভেতরে মাঝে মাঝে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আমাদের সবক দেন। এটা সংবিধান, ওটা ধারা—এসব বলেন। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই—সংবিধান এবং কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় আছে সংসদে আপনি একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করতে পারবেন? আমরা যখন তার প্রতিবাদ করেছি, এখন শুনলাম তারা সংসদের ভেতরেই আওয়াজ দিয়ে কমিটি গঠন করলেন। আমরা এটাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। এখন নাকি তারা এটার নাম পাল্টিয়ে নতুনভাবে ‘আকিকা’ করতেছেন নতুন নামে। তারা এখন বলছেন বিশেষ কমিটি। জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি ও ধোঁকাবাজি করবেন? পরিণতির জন্য তৈরি থাকুন।’

ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তুড়ি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে জনগণ। আপনারা হাজার চেষ্টা করলে ওই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; আপনারা ‘ডামি ফ্যাসিবাদ’ হতে পারবেন। ১৩৩টা অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল, যেগুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল—তার সবগুলো বিএনপি রেখে দিয়েছে। এটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। তারা বলে সুন্দর করে আরও ভালো করে এগুলো নিয়ে আসবে। এ পর্যন্ত ছয় মাস চলে যাচ্ছে, কই ভালো করে তো আনতে পারলেন না। আমরা বুঝতে পারছি জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য আরেকটা অপকৌশলের আশ্রয় তারা নিতে পারেন। তাদের মনমতো একতরফা ওই অবৈধ কমিটিতে আলাপ-আলোচনা করে। সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কোনো কমিটি নাই। এটা অবৈধ যদি গঠন করা হয়ে থাকে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জুলাইকেও ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কত কসরত। একাত্তর সাল অবশ্যই আমাদের গর্বের, সোনালী অংশ। চব্বিশ টানতে গিয়ে একাত্তর টানতে হবে কেন? একাত্তর থাকবে একাত্তরের মর্যাদায়, চব্বিশ থাকবে তার মর্যাদায়। চব্বিশ এর বীরদেরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে সে শহীদ হোক আর গাজী হোক, চব্বিশ নিয়ে কোনো অবহেলায় জাতি বরদাসত করবে না।’