গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
কাপাসিয়া উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারের সময় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নিহত নারীর স্বজনেরা।
নিহত আরিফা (৩০) উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নয়ানগড় গ্রামের দিনমজুর শামীমের স্ত্রী। তিনি দুই কন্যাসন্তানের মা ছিলেন। গত শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার দুপুরের পর জরায়ুর টিউমার অপসারণের জন্য আরিফাকে আমরাইদ বাজারে অবস্থিত আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর মৃত্যু হয়।
আরিফার খালাশাশুড়ি হুসনা আরার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু সময় অন্ধকারে থাকে অপারেশন কক্ষ। স্বজনদের উদ্বেগ প্রকাশের পর জেনারেটর চালু করা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকেরা জানান, রোগীর সমস্যা হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার সময় আরিফাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন হুসনা আরা। তিনি বলেন, “পরে পুলিশ এসে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।”
আরিফার শাশুড়ি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমার ছেলের বউ সুস্থ অবস্থায় টিউমার অপারেশনের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিল। রাতে জানতে পারি, সে মারা গেছে। তার দুটি ছোট মেয়ে রয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই অপারেশন থিয়েটারে তার মৃত্যু হয়েছে।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “অপারেশনের শেষ পর্যায়ে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে সেলাই শেষ করে ভেন্টিলেশনে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।” তিনি আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁদের হাসপাতালের স্বাস্থ্য বিভাগের নিবন্ধন রয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরাইদ জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় এক রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে একই হাসপাতালে এক প্রসূতির মৃত্যুর পর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনার পর তৎকালীন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমত আরা হাসপাতালটি সাময়িকভাবে সিলগালা করেছিলেন।