গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা গড়ায় হাতাহাতিতে। এক পর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে তার গলা ও বুকে একাধিকবার আঘাত করেন এবং তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে তার স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতে তোলা হলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

বিকেলে গাজীপুরে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার। গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকায়।

গত মঙ্গলবার রাতে মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের গাজীপুর ক্রাইমসিন টিম তদন্তে নেমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত নারীর নাম শান্তা বেগম (৩৩), বাবার নাম শহিদুল ইসলাম, বাড়ি নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকায়। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ঘটনার পর নিহতের বাবা বাসন থানায় মামলা করেন।

পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার জানান, প্রাথমিকভাবে একদিন মামলাটি তদন্ত করে বাসন থানা পুলিশ। যেহেতু এ ধরনের মামলা পিবিআইয়ের তালিকাভুক্ত, তাই গত ২৩ জুলাই মামলাটি নিজেদের হাতে নেয় পিবিআই গাজীপুর। শুরু থেকেই সমান্তরালভাবে গোপন তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল সংস্থাটি, যার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ফায়দাবাদের ট্রান্সমিটার মোড় থেকে সাইফুলকে ধরা হয়। তার কাছ থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, সাইফুলের আগে একটি বিয়ে হয়েছিল, সেই ঘরে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় শান্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় এক বছর পর সাইফুল জানতে পারেন, শান্তার এর আগে আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল—প্রথম স্বামী জুয়েল ও দ্বিতীয় স্বামী সবুজের সংসারে তার একটি করে ছেলে ও মেয়ে সন্তান রয়েছে।

এ তথ্য জানার পর সাইফুলের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে, শান্তার অন্য কারও সঙ্গেও সম্পর্ক থাকতে পারে। এই সন্দেহ থেকেই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং এক পর্যায়ে শান্তা সাইফুলকে তালাক দেন। পরে শান্তা নিজেই সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুরে ডেকে আনেন এবং তারা আবার বিয়ে করেন। এরপর দুই-তিন মাস সংসার ভালোই চলছিল, তবে সাইফুলের মনের সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি। একপর্যায়ে ঝগড়ার জেরে সাইফুল খালার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।

পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই সকালে শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলেন এবং বাসা থেকে একটি ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলেন। দুজন সেখানে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করে ওই আবাসিক হোটেলে ওঠেন। কক্ষে অবস্থানকালে পুরোনো বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা গড়ায় হাতাহাতিতে। এক পর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে তার গলা ও বুকে একাধিকবার আঘাত করেন এবং তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে সাইফুল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।