গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
চলতি বছরের শেষ দিক থেকে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের নীতিগত সমর্থনও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (০১ অগাস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
রবিবার (০২ অগাস্ট) স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ও দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেগুলো হলো দ্রুত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করা।
পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
বৈঠকে চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে পাঁচ ধাপে শেষ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
দলের নেতাদের মতে, ধাপে ধাপে নির্বাচন হলে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্বাচন পরিচালনা আরও কার্যকর হবে। একই সময়ে সব নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ও ভোটার অংশগ্রহণও বাড়বে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হলে বিএনপির আপত্তি নেই। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চালুর বিরোধিতা করেছিল বিএনপি। সেই অবস্থান থেকেই এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছে দলটি।
তবে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদে বিএনপির সমর্থিত একজন করে প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে এ দায়িত্ব থাকবে থানা ও জেলা বিএনপির ওপর। তারা সমঝোতায় ব্যর্থ হলে বিভাগীয় নেতারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।
তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশনা
বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মত দেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতিপ্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদ শূন্য হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও গুরুত্ব পায়।
সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা না হলেও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান। পরে তিনি বিষয়টি দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডকে জানাবেন।
বৈঠকে কয়েকজন সদস্য মত দেন, সংবিধানে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রয়োজনে তার আগেও নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন দেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ার। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।’
তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে ভোটগ্রহণ হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোয় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, তা পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সরকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই দলের সাংগঠনিক অবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ