গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গণহারে ফেলের ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কয়েক ঘণ্টা শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের লিখিত অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাদের মুক্ত করা হয়।
রামেরচর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তারা সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পর তাদের মুক্ত করা হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর স্কুলটি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিভাগে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে মাত্র ২১ জন পাস করেছে এবং ৫৭ জন ফেল করেছে।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি; বিজ্ঞান বিভাগে ফেল করেছে ৪৩ জন।
ফল প্রকাশের পর সোমবার সকাল থেকেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা শিক্ষকদের কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাদের অভিযোগ করেন, স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না, অধিকাংশ শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসেন না। শিক্ষকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করছে। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লিখিত অঙ্গীকারে শিক্ষকরা প্রতিশ্রুতি দেন, পরীক্ষায় ফেল করা সকল শিক্ষার্থীর বোর্ড চ্যালেঞ্জ ফি এবং ২০২৭ সালে আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণের খরচ তারা নিজস্ব অর্থায়নে বহন করবেন।
প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, এ বছর তার বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ২৬ শতাংশ; যা গত বছর ৫৪ শতাংশ ছিল।
তিনি বলেন, “ফেইসবুকে গত বছর আমার প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি বলে বলা হয়েছে। এটা অপপ্রচার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মো. সোহেল রানা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “রামেরচর হাই স্কুলে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি শান্ত করে শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছে।”
এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের কাছে কোনো অভিযোগ এসেছে কি-না জানতে চাইলে শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।