গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১১ জন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা নিয়াজ মোর্শেদ (২২), তার ছোট বোন মিমতাহ (১৭), তাদের মামা মো. ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাস চালক মো. মুন্না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়া থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস কলেজ বাজার এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় শাহ আমানত সেতু পার হয়ে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান অসংযতভাবে ইউটার্ন নিতে গেলে মাইক্রোবাসটির সঙ্গে প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান।
খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চমেক হাসপাতালের ০২, ১৯ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে আহত ১১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মী ইমন বলেন, ‘দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’
উদ্ধারকারী সাংবাদিক সেলিম জানান, ‘ঘটনাস্থলের অবস্থা অত্যন্ত মর্মান্তিক ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করি।’
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক খবরের কাগজকে জানান, ‘দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্য থেকে ৪ জনকে মৃত অবস্থায় ও ১১ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা হয়। চিকিৎসাধীন ও চিকিৎসাপ্রাপ্ত আহতদের ০২, ১৯ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে কাভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’