স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাড়িনক্ষত্র গোয়েন্দাদের হাতে

এই কাজে যুক্ত রয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জেলা বিশেষ শাখা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা—অর্থাৎ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চারটি গোয়েন্দা ইউনিট।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাড়িনক্ষত্র গোয়েন্দাদের হাতে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

নির্বাচন কমিশন যখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি সারছে, ঠিক তখন মাঠে নেমে পড়েছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে তারা—চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য পর্যায় পর্যন্ত।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা ও নগর এলাকা থেকে এই তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যেসব সংস্থা মাঠে

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই কাজে যুক্ত রয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জেলা বিশেষ শাখা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা—অর্থাৎ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চারটি গোয়েন্দা ইউনিট।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাগুলোর একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি তাদের রুটিন কাজের অংশ। নির্বাচনের আগে ও পরে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এসব তথ্য কাজে লাগে বলে তাদের ভাষ্য।

তালিকায় যা যা থাকছে

সংগৃহীত তথ্যের ফর্দটি বেশ দীর্ঘ। প্রার্থীর নিজের ও বাবা-মায়ের নাম, বর্তমান-স্থায়ী দুই ঠিকানা, পেশা, লেখাপড়ার মান, রাজনৈতিক অবস্থান, এলাকায় জনপ্রিয়তার চিত্র, মামলার তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর, এমনকি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের পরিচয় ও ছবি পর্যন্ত এর আওতায় পড়ছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ২১—আর ইতিমধ্যে অনেক এলাকায় এই কাজ গুটিয়েও এনেছে গোয়েন্দারা।

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার এক কাউন্সিলর প্রত্যাশী বলছিলেন, একাধিক সংস্থা তার কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে গেছে। তার কথায়, আগের নির্বাচনেও ঠিক একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার।

সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে প্রার্থী হতে চাওয়া একজন জানালেন ভিন্ন একটি দিক—কীভাবে ব্যানার-ফেস্টুন আর গণসংযোগের কার্যক্রম দেখেই সম্ভাব্য প্রার্থী চিহ্নিত করেন গোয়েন্দারা। শুধু আড়াল থেকে নজরদারি নয়, প্রয়োজনে সরাসরি কথাও বলেন তারা, এমনটাই তার অভিজ্ঞতা।

সাভার পৌরসভায় বিএনপির সমর্থন চাওয়া খোরশেদ আলম এবং ধামরাই পৌরসভায় একই দলের সমর্থনপ্রত্যাশী নাজমুল হাসান অভি—দুজনেরই বক্তব্য প্রায় কাছাকাছি: তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার ওপর নিয়মিত নজর রাখেন গোয়েন্দারা। এমন কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রত্যাশীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন—গোয়েন্দাদের কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হয়েছে তাঁদেরও।

ভোট নির্দলীয়, রাজনীতি তবু স্পষ্ট

আইনি কাঠামোয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বাস্তবতা ভিন্ন—মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর কিংবা মেম্বার, প্রতিটি পদেই দলীয় ছায়া থাকবে বলে ধারণা তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এরই মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কারা লড়বেন, তা জানিয়ে দিয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যাপারেও সবুজ সংকেত মিলেছে দল দুটির কাছ থেকে।

তুলনায় নীরব ক্ষমতাসীন বিএনপি—কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম আসেনি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্য ও নেতারা নিজ নিজ উদ্যোগে চেয়ারম্যান-মেম্বার পদপ্রার্থীদের নাম জানিয়ে দিয়েছেন কোথাও কোথাও। বাকিদের কেউ কেউ আবার নিজ উদ্যোগেই প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। ঢাকা লাগোয়া সাভারের কয়েকটি ইউনিয়নেও দেখা গেছে একই চিত্র।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ