গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
একটি ভিডিওতে বক্তব্যের শুরুতে ইসলামি কায়দায় অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্কের মুখে পড়ে বদলি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের এক আইপিএস কর্মকর্তা। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বুশরা বানুকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করেন বুশরা বানু। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে তৈরি ওই ভিডিওতে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন—ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমি থেকে তিনি যেসব সহায়তা পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে।
বুশরা জানান, পিএইচডি শেষে সৌদি আরবে শিক্ষকতার চাকরি করতেন তিনি। পরে সেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। সে সময় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং একাডেমির বই, গ্রন্থাগারের উপকরণ ও মক টেস্ট তার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্য শিক্ষার্থীদেরও একাডেমির সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে তার মতো আরও অনেকে সিভিল সার্ভিসে সুযোগ পান।
এই ভিডিও নিয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ করে হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড (এইচএলএফ) নামের একটি সংগঠন। তাদের দাবি, ভিডিওর শুরুতে বুশরা ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’ না বলে ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিয়ে বক্তব্য শুরু করেছেন, ‘ইনশা আল্লাহ’ বলেছেন এবং ‘জাজাকাল্লাহ’ বলে শেষ করেছেন।
সংগঠনটির বক্তব্য, ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন কর্মকর্তার জনসমক্ষে যোগাযোগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ও জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।
তবে এই সমালোচনার বিপরীতে এক্সে ভিন্নমতও উঠে এসেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিভিন্ন ধর্মের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় নিরপেক্ষতার মানদণ্ড কি একইভাবে প্রয়োগ হচ্ছে?
সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আশিস যোশী বুশরা বানুর পক্ষ নিয়ে পোস্ট দেন। তার মতে, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যই ভারতের প্রকৃত শক্তি। দুবার ইউপিএসসি উত্তীর্ণ বুশরা সৌদি আরবের স্বাচ্ছন্দ্যের চাকরি ছেড়ে দেশসেবা বেছে নিয়েছেন। তার ব্যবহৃত শব্দ ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতিফলন মাত্র—এর অর্থ এই নয় যে দেশের প্রতি তার অঙ্গীকার নেই। বৈচিত্র্যময় ভারতে ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের সহাবস্থান দুর্বলতা নয়, বরং গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরেকজন এক্স ব্যবহারকারী প্রশ্ন রাখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান গ্রহণযোগ্য হলে একজন মুসলিম আইপিএস কর্মকর্তার ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা নিয়ে প্রশ্ন কেন? গণতন্ত্রে নিরপেক্ষতাই যদি নীতি হয়, তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।