গাজীপুর কণ্ঠ, শিক্ষা ডেস্ক
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যে ফল জানার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (xiclassadmission.gov.bd) এ ফল প্রকাশ করা হয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল দেখতে পারছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এসএমএস এর মাধ্যমেও ফলাফল পাঠানো হচ্ছে। ফলাফলের ভিত্তিতে এখন নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিশ্চায়ন ফি দিতে হবে।
কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন। ওই সময় পর্যন্ত আবেদন করেছেন নয় লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী এবার আবেদন করার সময় সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পেরেছেন।
মেধা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে তাকে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সেই ফলই বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে পারবে। নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেবে কলেজ ও মাদ্রাসাগুলো। ২৩ সেপ্টেম্বর এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর হবে।
একাদশে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের ২২০ টাকা করে দিতে হয়েছে। এখন নির্বাচিত হওয়ার পর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় শিক্ষা বোর্ডকে বিভিন্ন খাতে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে।
এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিএনসিসি এবং শিক্ষককল্যাণ ও অবসরসুবিধা ভাতার ফি রয়েছে।
এর বাইরে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে রেড ক্রিসেন্ট ফি বাবদ ২৪ টাকা এবং বার্ষিক ক্রীড়া মঞ্জুরি বাবদ ৪০০ টাকা নেওয়া যাবে।
কলেজে ভর্তির ফি প্রতিষ্ঠান, অবস্থান ও এমপিওভুক্তির ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।
এমপিওভুক্ত কলেজের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকার বাইরে অন্যান্য মহানগর এলাকায় ৩ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত কলেজে ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।
ঢাকার বাইরের মহানগরে বাংলা ভার্সনে ৫ হাজার ও ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা, জেলা পর্যায়ে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বলে ২ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি কলেজগুলো সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি ফি নেবে। দরিদ্র, মেধাবী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফি যতটা সম্ভব মওকুফের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়।
সেখানে বলা হয়েছে, স্থাপনের অনুমতি থাকলেও পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই—এমন কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে কোনো অবস্থায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃত কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা শাখায় এবং অননুমোদিত কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বোর্ড নির্ধারিত আসনসংখ্যার বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠান নিয়ম ভেঙে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি এবং এমপিওভুক্তি বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: বিডিনিউজ