গাজীপুরে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যকে মারধর, প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনদের হামলার অভিযোগ

গাজীপুরে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যকে মারধর, প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও আনসার সদস্যকে মারধরের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন চিকিৎসকেরা। 

হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের সামনের সড়কে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব ডা. খলিলুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাজহারুল আলম।

বক্তব্য দেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জুবাইদা সুলতানা, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুস সালাম, ড্যাবের জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহজাহান সিরাজ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরহাদ, ড্যাব নেতা ডা. এনামুল হক, ডা. খায়রুজ্জামান, ডা. আবু বকর সিদ্দিক, ডা. কামরুল করিম ও ডা. নাজমুল ইসলাম।

চিকিৎসক নেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে আব্দুল হালিম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দিলে হাসপাতালের যন্ত্রটি অচল থাকায় স্বজনেরা তাঁকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্টসহ ওয়ার্ডে ফিরে আসেন।

রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ওই রাত আটটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকার নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। স্বজনেরা সেখানে রওনা হলেও রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে আবার এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদা রানী প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগ, এর পরপরই রোগীর স্বজন সৈকত (২৫) ও তাঁর সাত-আটজন সঙ্গী জরুরি বিভাগে ঢুকে মেডিসিন ট্রলি ভাঙচুর করেন এবং সরকারি ওষুধপত্র ছুড়ে ফেলেন। তাঁরা ডা. মাহমুদা রানীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে মারধর করেন। একপর্যায়ে সৈকত লোহার চেয়ার তুলে তাঁকে আঘাত করতে গেলে আনসার কমান্ডার গোলাম মোস্তফা বাধা দেন। চেয়ারের আঘাতে তাঁর ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। এরপর হামলাকারীরা তাঁকেও এলোপাতাড়ি পেটান। অন্য রোগীদের স্বজনেরা এগিয়ে এসে দুজনকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. আশাদুজ্জামান মন্ডল বাদী হয়ে সদর মেট্রো থানায় মামলা করেন। মামলায় সৈকতকে নামীয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।