গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা খানমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মামার দায়ের করা মামলায় তাকে (মাকসুদা) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
পুলিশ হেফাজতে থাকা গাজী নজরুল ইসলামকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম।
তিনি সোমবার সকালে সংবাদ মাধ্যমকেে বলেন, “সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। সংসদ সদস্য হওয়ায় তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। সেসব নিয়মকানুন মেনে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”
পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, “মরিয়ম যে রুমে থাকতো, সে রুম থেকে তার লেখা কিছু চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যের এই দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো ফোন ছিল না। তাকে ফোন ব্যবহার করতে দিত না।”
রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের পর ডিসি ইবনে মিজান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্লাটে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা খানমকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের পর ডিসি ইবনে মিজান জানান, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্লাটে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা খবর পান। তবে মৃত্যুর ঘটনা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে হতে পারে বলে ধারণা দেন তিনি।
গত জুলাইয়ে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রথমে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।
এরপর সংসদ সদস্য তার ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, “গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।”
এমপি দাবি করেন, “আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে।
“আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
ওই ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার পর গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে তার দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।
সূত্র: বিডিনিউজ