কালীগঞ্জে নামাজে গিয়ে হামলার শিকার শিবিরের ২০-২৫ সদস্য

তাদের ওপর লাঠিসোঁটা ও দা-বঁটির মতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

কালীগঞ্জে নামাজে গিয়ে হামলার শিকার শিবিরের ২০-২৫ সদস্য

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

কালীগঞ্জে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত ২০-২৫ জন সদস্য হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ হরদী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও গাজীপুর মহানগরীর নায়েবে আমির মো. খায়রুল হাসান তাঁর ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, শিবিরের গাজীপুর মহানগরীর মেট্রো সদর থানা শাখার উদ্যোগে ৭০-৭৫ জন শিক্ষার্থী সকালে ৩০০ ফিট এলাকায় নৌভ্রমণে গিয়েছিলেন। দুপুরে হরদী বাজারের একটি মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গেলে ওজুর পানি খরচ ও ফ্যান ব্যবহারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের ওপর লাঠিসোঁটা ও দা-বঁটির মতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০-১২ জনের মাথা ফেটে গেছে ও হাত-পা ভেঙেছে। বাকি প্রায় সবাই মারধরে মাথা, পিঠ, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। আহতদের ডিভাইন মার্সি হাসপাতাল, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতাল এবং ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

খায়রুল হাসান লিখেছেন, ওই শিক্ষার্থীরা “কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি”।

তাঁরা ভ্রমণে গিয়ে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে গিয়েছিলেন।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “সফররত অবস্থায় ছাত্ররা এলাকার মেহমান। তাঁদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ পুরো এলাকাবাসীকে কলঙ্কিত করছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আশা করছি, মেহমানদের সঙ্গে এমন আচরণে এলাকার বিবেকবান লোকেরা লজ্জিত ও দুঃখিত হবেন।”

এলাকাটি তাঁর নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ করে খায়রুল হাসান বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা হওয়ার কারণে আমি আশা করছি, এলাকাবাসী চিহ্নিত অপরাধীদের আটক করে প্রশাসনের কাছে তুলে দিয়ে কলঙ্কের দায় থেকে মুক্ত হবেন।”

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি লেখেন, “আমি এই জঘন্যতম হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। “

এর নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপশক্তি জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি”, যোগ করেন তিনি।