গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
মালয়েশিয়ায় চাকরিপ্রত্যাশী বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই তারিখের আগে করা কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে নানা উদ্বেগের মধ্যে ২ বছরের বেশি সময় পর মালয়েশিয়ায় নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার এ ঘোষণা এলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা অবশ্যই সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে করাতে হবে। এগুলোর তালিকা শিগগির মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেন্টারগুলোর সক্ষমতা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা বা না চলার ওপর ভিত্তি করে তালিকায় মেডিকেল সেন্টার যুক্ত বা বাদ দেওয়া হতে পারে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর আগে আগ্রহী কর্মীদের মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলছে, কিছু দালাল ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই স্বাস্থ্য পরীক্ষার আশ্বাস দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোর অনুমোদন যাচাই না করে এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দিতে বা পাসপোর্ট ও টাকা হস্তান্তর না করতে কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
নতুন নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবে, তাদের ভিসার সনদসহ (ভিডিআর) প্রয়োজনীয় নথিপত্র অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়ম লঙ্ঘন করলে মেডিকেল সেন্টার বন্ধ, বৈদেশিক রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর সরকারি অনুমোদন বাতিল হতে পারে।
অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ঘটনা ঘটলে তারিখ, স্থান, জড়িতদের নাম ও প্রমাণসহ বিস্তারিত উল্লেখ করে secretary@probashi.gov.bd ইমেইলে রিপোর্ট করার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অনিয়ম পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
অনিয়ম এবং অতিরিক্ত অভিবাসন খরচের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছিল মালয়েশিয়া।
নতুন নিয়োগ ব্যবস্থার অধীনে মালয়েশিয়া সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) পাশাপাশি ২৫টি মূল রিক্রুটিং এজেন্সি এবং ৩১২টি সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে।
সহযোগী এজেন্সিগুলো মূল এজেন্সি বা বোয়েসেলের মাধ্যমে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও এই রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।
বোয়েসেলের মাধ্যমে পৃথকভাবে শূন্য অভিবাসন খরচে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে সরকার।
সরকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলেও নিয়োগের মোট খরচ এবং কবে থেকে কর্মী পাঠানো শুরু হবে সে সময়সূচি এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।