হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ, পাবনায় গুলিতে শ্রমিক দল ও শ্রমিক লীগ নেতা নিহত

হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ, পাবনায় গুলিতে শ্রমিক দল ও শ্রমিক লীগ নেতা নিহত

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

পাবনা সদর উপজেলায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন পুষ্পপাড়া হাটের বর্তমান ইজারাদার ও শ্রমিক লীগের নেতা আবদুস সালাম হাজী (৫৫) এবং তার সহযোগী, আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন হোসেন (৫০)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। দুজনের বাড়িই একই থানার ধর্মগ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় সালাম সহযোগীদের নিয়ে হাটের অফিসকক্ষে বসে ছিলেন। হঠাৎ মুখোশ পরা কয়েকজন ওই কক্ষে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন, তারপর পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরেই প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।’

ঘটনার তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হবে। এর বেশি কিছু তিনি এখনই জানাতে পারেননি।

আতাইকুলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মনা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, রিপন ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। সালাম শ্রমিক লীগ করতেন, তবে কোন পদে ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সালাম সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করতেন। তবে তিনি পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু রিপনকে ‘দলের একজন নিবেদিত কর্মী’ বলে উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আশা করি, খুব শিগগির তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে আমাদের যা যা করণীয়, আমরা করব।’

প্রসঙ্গত, এই পুষ্পপাড়া হাটেই ২০১৪ সালের ৩১ মে রাত আটটার দিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আওয়ামী লীগের চার কর্মী খুন হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন সুলতান, ফজলু, সালাম ও রফিকুল। তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, একজন মারা যান পরদিন হাসপাতালে।