মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের জলকামান, কাঁদানে গ্যাস

সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের জলকামান, কাঁদানে গ্যাস

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

ঢাকার মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ করা পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। 

রবিবার (০১ নভেম্বর) সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করলে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ।

দুপুর ১২টার দিকেও সেখানে সংঘর্ষ চলছিল। গোলচত্বরের নিয়ন্ত্রণ পুলিশের হাতে থাকলেও ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। সংঘর্ষের পর থেকে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পুলিশ বলছে, ‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে বিক্ষোভকারীদের একজনকে আটক করে গোলচত্বরের পুলিশ বক্সে রাখা হয়েছিল। এরপর উত্তেজনা ছড়ায়। চারদিক থেকে শ্রমিকেরা পুলিশ বক্সের দিকে এগোতে থাকলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দুপুর ১২টার দিকেও সংঘর্ষ চলছিল এবং পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে। বিস্তারিত তিনি পরে জানাবেন বলে জানান।

সকাল ৯টার দিকে মিরপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা গোলচত্বরে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় যানজট তৈরি হয়। ট্রাফিক পুলিশ বিকল্প পথে গাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে শ্রমিকেরা। 

মিরপুর জোনের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মাহফুজুল হক বকশী সকালে বলেন, শ্রমিকেরা আজও সড়ক আটকে রেখেছেন এবং মিরপুর-১০ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ আছে।

পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছেন। পরিস্থিতি সামলাতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরেই একই দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। শনিবারও মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়ে সড়ক অবরোধ করায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক মিরপুর-১০ নম্বরে সড়কে নামেন। পরে সেখান থেকে সরে গিয়ে তারা পূরবী সিনেমা হলের সামনে মেট্রোরেলের ১১ নম্বর স্টেশনের কাছে আবার অবরোধ করেন। দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর বিকেলে তারা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর মধ্যেই রবিবার পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ।