ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে উত্তাল গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল, শতাধিক কারখানায় ছুটি, গ্রেপ্তার ২০

পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে উত্তাল গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল, শতাধিক কারখানায় ছুটি, গ্রেপ্তার ২০

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

গাজীপুরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।

রবিবারের (০১ নভেম্বর) এই ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শ্রমিকরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন। রবিবার সকালে তাদের অনেকে কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে আসেন। কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈরর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়, ভাঙচুর হয় এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে শতাধিক কারখানায় একদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার বেশিরভাগ কারখানা এর মধ্যে ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কোনাবাড়ী, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা সকাল থেকেই অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে কয়েক দফা সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশ জানায়, কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।

পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিল্প পুলিশ-১ (গাজীপুর শিল্পাঞ্চল)-এর পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, অসন্তোষের ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিল্প পুলিশ-২ (গাজীপুর শিল্পাঞ্চল)-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিকেল তিনটার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল শুরু হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি জানান, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এর মধ্যেই রবিবার সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দুপুর একটার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের শ্রমমন্ত্রী বলেন, কারখানা যেন সচল থাকে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা হলে সরকার তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। উৎপাদন চালু রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।