গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পর, তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের লড়াইয়ের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এই যুদ্ধের সমাপ্তি বা সময়সীমা নির্ধারণ করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের থাকবে না।
রবিবার (১ নভেম্বর) ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলা চালানোর ইঙ্গিতের বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেন, ‘সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধ পূর্বের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর সময়সূচি বা সমাপ্তির শর্ত নির্ধারণের অবস্থানে থাকবেন না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ পর্বে তেহরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর আবারও নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে।
সংবাদাতাদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনও ১টি বা ২টি লক্ষ্যবস্তু সামাল দেওয়া বাকি আছে, তবে আমরা তা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে করে ফেলতে পারি। তিনি ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আপনারা চাইলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের দিকে তাকাতে পারেন, সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই তা করতে পারি।’
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বার্তা প্রতিধ্বনি করে রিভোলিউশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না; শত্রুর ক্ষতি সাধনে এক বিস্তৃত রণক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে পুনরায় হামলার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যদিও ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসেন রেজাই জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের বাজেয়াপ্ত সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বা কোনো আলোচনা হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা আশা করি অপর পক্ষ বিচক্ষণতার পরিচয় দেবে এবং কূটনীতিকে বেছে নেবে। তবে ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয় বিষয়ের জন্যই প্রস্তুত রয়েছে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গরগাশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা এই সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান আশা করলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস