ইরানের স্থলপথে বাণিজ্য ঠেকাতে নতুন টাস্কফোর্স গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র

তুন টাস্কফোর্স গঠনকে বিশ্লেষকেরা দেখছেন তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে।

ইরানের স্থলপথে বাণিজ্য ঠেকাতে নতুন টাস্কফোর্স গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্স

ইরানের নৌ অবরোধের পাশাপাশি এবার দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্য পাচার ঠেকাতে আলাদা একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

শনিবার (০৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামের এই দলের কার্যালয় হবে ফ্লোরিডার টাম্পায়। খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সেন্টকম বলছে, উন্নত অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং ওয়াশিংটনের ভাষায় ‘অবৈধ আয়ের উৎস’ বন্ধ করাই এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টাস্কফোর্সটি অর্থ, পররাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করবে।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এতে ইরানের সন্ত্রাসে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের সক্ষমতা আরও সীমিত হবে।

সেন্টকমের হিসাবে, নৌ অবরোধের কারণে ইরান ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি ও আরব সাগর দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি এতে ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

তবে রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে সামরিক সরঞ্জাম আনছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সামরিক সংস্থাগুলোর একটি গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত দুই বিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক দেশটিতে ঢুকেছে। এসব পণ্য এসেছে: রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে কার্গো জাহাজে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে ও চীন থেকে মালবাহী বিমানে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল আট মাসেরও বেশি আগে। মার্কিন হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটি এখনো অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি বলে বিবেচিত হচ্ছে, আর সেখানকার শাসকেরা ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছেন।

নতুন টাস্কফোর্স গঠনকে বিশ্লেষকেরা দেখছেন তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যা এখন বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে। ফলাফলে উল্লাস প্রকাশ করেছে ইরান। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন এবং এ যুদ্ধ আদৌ মূল্য দেওয়ার মতো ছিল কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন বলে মনে হয়েছে।

নির্বাচনের পর সংঘাত আবার শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা জোরদার করেছেন। অন্যদিকে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অবকাঠামোতে ব্যাপক পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে উদ্বেগে ফেলেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নতুন হামলা চালালেও আলোচনায় ইরানের অবস্থান মৌলিকভাবে বদলাবে না এবং দেশটির সরকারও পতনের মুখে পড়বে না।