বিশেষ প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে গাছ চুরির মামলার আসামী আব্দুল জলিল খন্দকার (৫৫) জামিনে মুক্ত হয়েই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া যুবলীগের এক নেতার উপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল লুট করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) যুবলীগ নেতা বাদী হয়ে হামলা ও লুটের ঘটনায় জলিলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার পর থেকে যুবলীগ নেতার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন জলিল মাস্টারসহ তার লোকজন।
হামলা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মছিউর রহমান।
থানা সূত্রে জানা যায়, সরকারি গাছ চুরির ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়ায় হুমকির অভিযোগে গত ১৭ জুলাই মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি, হাফিজুল্লাহ দর্জি’র ও হাফিজুল্লাহ নামে তিনজন বাদি হয়ে জলিল মাস্টারের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় পৃথক তিনটি সাধারণ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল।
হামলার শিকার যুবলীগ নেতা জাঙ্গালিয়ার মৃত বারেক দর্জি’র ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি। তিনি জাঙ্গালিয়া ১ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ইট-বালু সাপ্লাই-এর ব্যবসা করেন।
হামলাকারী আব্দুল জলিল খন্দকার (মাস্টার) জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের মৃত লতিফ খন্দকারের ছেলে। জলিল খন্দকার জাঙ্গালিয়া সিদ্দিক মিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তিনি এলাকায় জলিল মাস্টার হিসেবে পরিচিত।
এছাড়াও হামলা ও লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জলিল মাস্টারের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৫) এবং একই এলাকার মাতাব্বর আলীর দুই ছেলে মোশারফ দেওয়ান (৩৫) ও মোবারক দেওয়ানকে (২৯) মামলায় আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গাছ চুরির মামলার আসামী আব্দুল জলিল খন্দকারকে গত ১৪ আগস্ট (শুক্রবার) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জাঙ্গালিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৫ আগস্ট (শনিবার) তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে ওই দিন বিকেলেই জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে যায় জলিল মাস্টার। গাছ চুরির ঘটনায় জলিলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখির উপর ক্ষিপ্ত ছিল জলিল মাস্টার। সেই বিরোধ থেকেই ১৬ আগস্ট (রোববার) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জাঙ্গালিয়া বাজার এলাকায় থাকা মধু ডাক্তারের দোকানের সামনে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখিকে একা পেয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একত্রে হামলা চালায় আব্দুল জলিল খন্দকার, জহিরুল ইসলাম, মোশারফ দেওয়ান ও মোবারক দেওয়ানসহ অজ্ঞাত আরো কয়েজন। হামলায় গুরুতর আহত হয় যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পালিয়ে যায় জলিল মাস্টারসহ তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখিকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে বিকেল পাঁচটার দিকে জাঙ্গালিয়া শশী মার্কেটের পূর্ব পাশে সড়ক সংলগ্ন থাকা সরকারি একটি মেহগনি গাছ কেটে নিয়ে যায় জলিল মাস্টার। যার মূল্য আনুমানিক চার হাজার টাকা। ওই ঘটনায় জলিল মাস্টারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যুবলীগের নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি। পরবর্তীতে ২৭ জুন জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কাওছার হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে ‘সরকারি গাছ’ চুরির অভিযোগে জলিল মাস্টারের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জলিল মাস্টারকে জাঙ্গালিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৫ আগস্ট তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছিল।
হামলার শিকার যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি চিকিৎসাধীন থাকায় কথা বলতে পারবে না জানিয়ে তার স্ত্রীর ভাই ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি গাছ চুরির ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে জলিল মাস্টারসহ তর সহযোগীরা মোয়াজ্জেম হোসেন পাখির উপর হামলা চালিয়েছে এবং নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল লুট করেছে। হামলায় গুরুতর আহত মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি বর্তমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় তার পক্ষে আমি থানায় এজাহার নিয়ে গেলে পুলিশ মামলা নথি ভুক্ত করেন’।
তিনি আরো বলেন, ‘মামলার দায়ের পর থেকে আমাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন জলিল মাস্টারসহ তার লোকজন। জলিল মাস্টার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের হোতা’।
জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সরকারি গাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাঙ্গালিয়া ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন পাখির উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছেন’।
এ সকল বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল খন্দকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সজল চন্দ্র দাস বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় রোববার রাত ১১ টা ১০ মিনিটে মোয়াজ্জেম হোসেন পাখিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ফেটে যাওয়ায় সেলাই করতে হয়েছে এবং হাতের হাড় ভেঙ্গে গেছে। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন’।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মছিউর রহমান বলেন, ‘সরকারি গাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোয়াজ্জেম হোসেন পাখির উপর হামলা এবং নগদ টাকা ও মোবাইল লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। মামলায় হামলাকারী আব্দুল জলিল খন্দকারসহ ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে’।
তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে জলিল মাস্টারের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন পাখি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে’।
আরো জানতে……
অবশেষে ‘সরকারি গাছ’ চুরির মামলায় জলিল মাস্টারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
কালীগঞ্জে ‘সরকারি গাছ’ চুরির অভিযোগে জলিল মাস্টারের বিরুদ্ধে মামলা