রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের তিন মাসের মাথায় কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে চললেও, সোমবার দক্ষিণ ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ — এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে জটিল হয়ে উঠছে চুক্তির রূপরেখা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সোমবার তারা দক্ষিণ ইরানে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল মাইন পাতার চেষ্টা করা ইরানি নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।
কমান্ড বলেছে, এটি “আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ”।
নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, “চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে আমরা সংযম বজায় রাখছি, কিন্তু আমাদের বাহিনীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছি।”
একই দিনে ইরান দাবি করেছে, তারা নতুন বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি “শত্রুপক্ষের স্টেলথ ড্রোন” ভূপাতিত করেছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, “পারস্য উপসাগরের আকাশসীমায় আর কোনো স্টেলথ ড্রোন ঢুকতে পারবে না।”
হামলার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে দোহায়। ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে যে বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে:
হরমুজ প্রণালী: চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী ৩০ দিনে মাইন সরানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জাপানের নিক্কেই পত্রিকা জানিয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে তেহরান বলছে কাঠামো চুক্তি হওয়ার আগে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা নয়।
জমাটবদ্ধ তহবিল: ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর দোহায় উপস্থিত রয়েছেন। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় দেওয়া নিয়ে কথা চলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “কূটনীতিকে সফল হওয়ার প্রতিটি সুযোগ দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রণালী খোলা ও পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার বিষয়ে টেবিলে “বেশ শক্ত একটি প্রস্তাব” রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে”, তবে ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অবস্থা কী?
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আগে দৈনিক ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলত, এখন চলছে মাত্র কয়েক ডজন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সোমবার ৩২টি জাহাজ এবং পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ইরানের বিপ্লবী গার্ড নৌ বাহিনীর অনুমতি নিয়ে প্রণালী পার হয়েছে।
এই অচলাবস্থায় তেল, সার ও খাদ্যের দাম বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। তবে সোমবার চুক্তির আশায় তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছে।
ইসরায়েল ও আব্রাহাম অ্যাকর্ড প্রসঙ্গ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, লেবাননে হেজবোল্লার বিরুদ্ধে হামলা আরও তীব্র করা হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এরপর লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ একাধিক স্থানে হেজবোল্লার অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তার পোস্টে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান ও তুরস্ককে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য “বাধ্যতামূলকভাবে” আহ্বান জানিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি মূলত ইরান চুক্তিকে ইসরায়েল-বান্ধব হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল।
আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলী ভায়েজ বলেছেন, “ট্রাম্প একটি কল্পনাকে আরেকটি দিয়ে বদলাতে চাইছেন।”