গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
প্রযুক্তি পেশাজীবী আব্দুর রাকিব সম্প্রতি মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস পান। সেখানে বলা হয়, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এজন্য তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। তবে, সাত দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে ১ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় দেওয়া হবে বলেও ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাকিব বলেন, প্রথমে তিনি বার্তাটি সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন, কিন্তু পরে তার সন্দেহ হয়। প্রযুক্তি সম্পর্কে জানাশোনা থাকা একজন মানুষও এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, রাকিবের মতো আরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যানবাহন চালক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। গত ৪ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সিগনালে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই এ ধরনের প্রতারণা বাড়তে শুরু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতারণার কৌশল ও ডিজিটাল জালিয়াতি
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারণামূলক এসব বার্তা সাধারণত বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হয়। বার্তাগুলোতে সরকারি বা পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা লিংক যুক্ত থাকে। ব্যবহারকারীরা ওই লিংকে প্রবেশ করলে তাদের ব্যাংক কার্ডের তথ্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ব্যাংকিং তথ্য দিতে বলা হয়। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
ভুয়া ওয়েবসাইটগুলো পরিবহনসংক্রান্ত সরকারি প্ল্যাটফর্মের আদলে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে অর্থ পরিশোধ করেন। কিছু বার্তায় আবার দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করলে কম টাকায় নিষ্পত্তির প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে।
পুলিশের সতর্কবার্তা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে, এসব এসএমএস সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ট্রাফিক বিভাগ থেকে পাঠানো হয়নি।
সোমবার (২৫ মে) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানিয়েছে, এআইভিত্তিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে কোনো জরিমানার তথ্য পাঠানো হচ্ছে না। আপাতত শুধুমাত্র ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মোবাইলে নোটিফিকেশন পাঠানোর একটি ব্যবস্থা পরিকল্পনায় থাকলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। প্রয়োজনে শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

এআই ক্যামেরা অবকাঠামোর দায়িত্বে থাকা ডিএমপির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভবিষ্যতে ডিজিটাল নোটিফিকেশন চালুর পরিকল্পনা থাকলেও ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি।
ডিএমপি স্পষ্ট করেছে, এসএমএস বা অন্য কোনো মাধ্যমে তারা কখনোই কারও পিন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) জানতে চায় না।
জরুরি প্রয়োজনে নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বর অথবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড