বিশেষ প্রতিনিধি : কালীগঞ্জের একুতা এলাকায় ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি আত্মগোপনে যাওয়ার পর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে থানায় অপহরণের অভিযোগ দিয়েছেন তার স্ত্রী।
পুলিশের তৎপরতার মধ্যে ছয় দিন পর আবার ফিরে এসেছেন মো. মিজানুর রহমান (৬৭) নামের ওই ব্যক্তি।
মিজানুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার একুতা গ্রামের বাসিন্দা।
গত ২৬ অক্টোবর মিজানুর রহমান বাড়ি থেকে অপহৃত হন বলে তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৪০) কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাদের প্রতিবেশী আলম শেখ ও তার কয়েকজন স্বজনের বিরুদ্ধে।
পরে গত ৪ নভেম্বর মিজানুর রহমান কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে হাজির হয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার একুতা গ্রামের বাসিন্দা আলম শেখ বলেন, তার বাবা আবুল হাসেম ১৯৮১ সালে প্রতিবেশী সামুদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তার বাবা ওই জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর তিনি যথারীতি নামজারি করে তাতে ঘর নির্মাণ করে ভোগদখলে আছেন।
কিন্তু মিজানুর রহমান ‘ভুয়া’ কাগজ তৈরি করে গত ৭ অক্টোবর ওই জমি স্থানীয় ‘প্রাণ-আর এফএল’ কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন বলে আলম শেখের অভিযোগ।
তিনি বলেন, “এ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও প্রভাবশালী একটি পক্ষের পরামর্শে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা আমার ওই জমি দখল করার পাঁয়তারা করছে।”
আলম শেখ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পেরে মিজানুর রহমানকে আত্মগোপনে পাঠিয়ে ‘অপহরণ নাটক সাজিয়ে’ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
“এই ব্যাপারে মিজানুর রহমানের স্ত্রী জোসনা বেগম আমাদের নামে কালীগঞ্জ থানায় অপহরণের লিখিত অভিযোগও করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে মিজানুর রহমান তার শ্বশুর বাড়ি থেকে স্বশরীরে থানায় গিয়ে হাজির হন।”
স্থানীয় কিছু দালাল, অসাধু প্রকৃতির লোকজন তাদের হয়রানি করছে অভিযোগ করে আলম শেখ বলেন, “ওই মহল আমাকে ফাঁসাতে তারা মিজানুর রহমানকে হত্যা করতেও দ্বিধা করবে না। এই ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার বারাবর অভিযোগ করা হয়েছে।”
প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমানের স্ত্রী জোসনা বেগম বলেন, সম্প্রতি তার স্বামী তাদের জমি অন্যত্র বিক্রি করার পর থেকে প্রতিবেশী আলম শেখ ও তার স্বজনরা নানাভাবে মিজানুর রহমানকে হুমকি দিচ্ছে।
“এই অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে আমার স্বামী প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে আর বাড়ি ফিরেন নাই। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে একদিন পর থানায় আলম শেখ ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে স্বামীকে অপহরণ করে আটকে রেখেছে সন্দেহে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করি।”
পরে পুলিশি তৎপরতা শুরু হলে তার স্বামী এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ৪ নভেম্বর কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে হাজির হন বলে জোসনা জানান।
এই ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক বলেন, জমি-জমা নিয়ে আলম শেখ ও মিজানুর রহমানের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এসব নিয়ে হুমকির প্রেক্ষিতে ভয় পেয়ে মিজানুর রহমান ২৬ অক্টোবর রাতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেন। একদিন পর তার স্ত্রী জোসনা বেগম অপহরণের লিখিত অভিযোগ করেন। তাকে উদ্ধারে নানা তৎপরতার মধ্যে ৪ নভেম্বর মিজান কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে হাজির হন।
পরে ওইদিনই আত্মগোপন ও থানায় হাজির হওয়ার সকল বিষয় উল্লেখপূর্বক লিখিত রেখে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ওসি জানান।