কালীগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’র অভিযোগে মামলার আবেদন

কালীগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’র অভিযোগে মামলার আবেদন

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে মাহাথির মোঃ হিমেল খান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মাদ্রাসার পুকুরে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে থানায় মামলার আবেদন দায়ের‌ করা হয়েছে।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় এ আবেদন করা হয়।

এর আগে শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা‌ সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা এলাকার ‘নগরভেলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত মাহাথির মোঃ হিমেল খান পূবাইলের হারবাইদ এলাকার প্রবাসী কবির খানের ছেলে। সে হেফজ‌ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসার মুহতামিম (পরিচালক) মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ (৪৮)। তিনি পূবাইল থানার তালটিয়া এলাকার মৃত: হাছেন আলীর ছেলে। এছাড়াও আরো দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার আবেদনের বাদী নিহতের মামা শামীম আহমেদ (৩২)।

‘নগরভেলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা (ফাইল ফটো)।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরি (নাম্বার ২০৬) মূলে ঘটনাস্থল ‘নগরভেলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এমন ধারণার কথা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করলেও মাহাথির মোঃ হিমেল খানের মৃত্যু কোন আঘাত জনিত বা অন্য কোন কারণে হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে‌ ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেছে পুলিশ।

মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেছে, ”গত শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি জহিরউদ্দিন খন্দকার (৪৩) তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কল করে জানায় মাহাথির মোঃ হিমেল খান অসুস্থ্য। তাকে‌ নিয়ে তিনি মৈনারটেক এলাকার এস্টার হাসপাতালে যাচ্ছেন। আপনিও আসেন। খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে যাওয়ার পথে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তেরমোখ ব্রীজের উপরে একটি এম্বোলেন্সে মাহাথির মোঃ হিমেলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এম্বোলেন্সের সাথে থাকা মাদ্রাসার মুহতামিম (পরিচালক) মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ কাছে মাহাথির মোঃ হিমেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। সে সময় লাশ এ্যাম্বোলেন্সে করে মাদ্রাসায় নিয়ে যায়।‌ পরে মাদ্রাসায় গেলে অন্য ছাত্ররা জানায় মাহাথির মোঃ হিমেলকে মৃত অবস্থায় মাদ্রাসার পুকুর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর‌ বিষয়টি কালীগঞ্জ থানায় অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল (মাদ্রাসা) থেকে লাশ থানায় নিয়ে যায়।”

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ”অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে মাহাথির মোঃ হিমেলকে হত্যা করে মাদ্রাসার পুকুরে ফেলে দেয়। ঘটনার ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।”

নগরভেলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম (পরিচালক) মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূদন পান্ডে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরে রোববার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কালীগঞ্জ থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার সাহাজী বলেন, রোববার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।