গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় নতুন করে ইসরায়েলের তুমুল হামলার জেরে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। এই হামলা ‘অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্য তলব করেছে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকেও।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইসরায়েলের হামলার বাড়বাড়ন্ত দেখে তিনি হতবাক। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি বলেন, “এই যুদ্ধ নতুন একটি অন্ধকার অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।”
গাজায় ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাউজ অব কমন্সে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন লামি।
সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত জিপি হটোওভেলিকেও পরাষ্ট্রদপ্তরে তলব করা হয়েছে।
সেখানে যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়কমন্ত্রী তাকে বলবেন যে, গাজায় ইসরায়েলের ত্রাণ বন্ধ করার বিষয়টি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লামি বলেন, “সোমবার গাজায় ১০ ট্রাকেরও কম ত্রাণ প্রবেশ করেছে। এটি ন্যাক্কারজনক। নেতানিয়াহু সরকার বিশ্বের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র হিসাবে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
“বিশ্বজুড়ে বন্ধু এবং অংশীদারদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি জনগণের স্বার্থ ক্ষুন্ন করছে। নেতানিয়াহু সরকারের এমন কার্যকলাপের কারণেই আজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাজ্যের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে”, বলেন তিনি।
ইসরায়েলের জনগণের উদ্দেশে লামি বলেন, “গাজা যুদ্ধের কর্মকাণ্ডের কারণে আপনাদের (ইসরায়েল) সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
ইসরায়েল এরপরও গাজায় অভিযান চালিয়ে গেলে এবং অবাধে ত্রাণ প্রবেশ করতে দিতে ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ সরকার আরও পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ার করেন লামি।
কিন্ত ইসরায়েল ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এবং বাণিজ্য আলোচনা বন্ধের পদক্ষেপেও অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
বাণিজ্য অলাচনা স্থগিত প্রসঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ওরেন মারমোর্সটেইন এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, লামি হাউজ অব কমন্সে ঘোষণা দেওয়ার আগে থেকেই যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আদৌ এগুচ্ছিল না।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরায়েল-বিরোধী মনোভাবে আচ্ছন্ন হয়ে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নিজেদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চায় তাহলে তাদের সেই বিশেষাধিকার আছে। আর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারির বিষয়ে ওরেন বলেন, “এটি অন্যায্য।”
গত শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। সোমবার নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল পুরো গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যেই গাজায় দুর্ভিক্ষ এগিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন।
সোমবার ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “বেসামরিক জনগণকে অপরিহার্য মানবিক সহায়তা প্রদানে ইসরায়েল সরকারের অস্বীকৃতি অগ্রহণযোগ্য আর এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমরা পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ করার যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করি। আমরা সুর্নিদিষ্ট নিষেধাজ্ঞাসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।”