দুই সপ্তাহের মধ্যে পরমাণু চুক্তি না হলে ইরানে সামরিক হামলা করবে যুক্তরাষ্ট্র!

দুই সপ্তাহের মধ্যে পরমাণু চুক্তি না হলে ইরানে সামরিক হামলা করবে যুক্তরাষ্ট্র!

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন, ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে আলোচনায় বসার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমঝোতা না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, “যেহেতু ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা এখনো আছে, প্রেসিডেন্ট আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।”

এই সময়সীমা মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মার্কিনপন্থী’ যুদ্ধবিরোধী ম্যাগা (MAGA) সমর্থকদের শান্ত রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি ইসরায়েলকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালানোর জন্য আরও সময় দিচ্ছে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা

ইসরায়েল টানা সাতদিন ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্পষ্ট বার্তা হলো—হামলা বন্ধ করুন। মানুষ মারা যাচ্ছে। কূটনীতিতে ফিরে আসুন।”

ইরানের পাল্টা হামলা ও পরিস্থিতির অবনতি

এদিকে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ধারাবাহিকভাবে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ইরানের মিসাইল হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি হাসপাতাল এবং তেল আবিবের আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে ২৪০ জন আহত হয় এবং বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল আবারও ইরানে হামলা চালিয়ে একটি নির্মাণাধীন পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইতোমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং গোলাবারুদের সংকটে পড়েছে।

‘পারমাণবিক অস্ত্র নয়, সম্পূর্ণ বিজয় চাই’ — ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে তিনি কোনো যুদ্ধবিরতি চান না। ট্রাম্প বলেন, “বিজয় মানে একটাই—ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।”

ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না, প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট।”

নতুন চুক্তির সম্ভাবনা ও ‘বাংকার বাস্টার’ প্রস্তুতি

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন। দ্বিতীয়বার দায়িত্বে ফিরে এসে তিনি নতুন চুক্তির কথা বলেন। তবে ৬০ দিনের সময়সীমা শেষে ইরান কোনো সাড়া না দেওয়ায় ইসরায়েল হামলা শুরু করে।

মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা দিয়েছেন। বিশেষ করে ‘ফোর্ডো’ নামের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাটি ধ্বংসে প্রয়োজন হবে মার্কিন নির্মিত বিশেষ ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা—যা কেবল বি-২ বোমারু বিমান দিয়েই ব্যবহার করা সম্ভব।

মার্কিন জনগণের দ্বিধা ও ট্রাম্পের কৌশল

যুদ্ধবিরোধী ম্যাগা আন্দোলনের প্রবল চাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি। তার ঘনিষ্ঠ সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন।

ব্যানন বলেন, “ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র যেতে দেওয়া যাবে না। আর ইসরায়েল নিজের কাজ শেষ করতে যথেষ্ট সক্ষম।”