ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ সফর: ব্রিটেন আসলে কী পেল?

ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ সফর: ব্রিটেন আসলে কী পেল?

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটেন যতটা সম্ভব জাঁকজমক দেখিয়ে স্বাগত জানাল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রাষ্ট্রীয় ভোজ থেকে শুরু করে কড়া নিরাপত্তা—সবই ছিল নিখুঁত। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন রয়ে গেল, এর বিনিময়ে ব্রিটেন কী পেল?

ট্রাম্পের সফরের আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বড় অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করতে হয় তার জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার পর। এপস্টেইনের নাম যেন ট্রাম্পের সফরে না ওঠে—এটাই ছিল সরকারের প্রধান চিন্তা। তাই যখন কয়েকজন কর্মী উইন্ডসর ক্যাসলে ট্রাম্প-এপস্টেইনের ছবি প্রজেক্ট করে, তখনই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সাংবাদিকদেরও সফরজুড়ে বেশ সংযত দেখা গেছে।

বড় সাফল্য হিসেবে স্টারমার ঘোষণা করেছেন ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের “টেক প্রস্পেরিটি ডিল”। মার্কিন কোম্পানিগুলো আগামী এক দশকে ব্রিটেনে বিনিয়োগ করবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ বিলিয়ন পাউন্ড যাবে এআই ও প্রযুক্তি অবকাঠামোয়, আর ৯০ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করবে ব্ল্যাকস্টোন। সরকার দাবি করছে, এতে ৭,৬০০ চাকরি সৃষ্টি হবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এগুলোর অনেকটাই আগেই ঘোষণা করা বিনিয়োগ, এখন শুধু ট্রাম্প সফরের সময় একসাথে জোড়া হয়েছে। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ সরাসরি বললেন, “এগুলো সিলিকন ভ্যালির ফেলে দেওয়া টুকরো—আমরা যেন প্রযুক্তির ভাসাল রাষ্ট্র।”

এআই ডাটা সেন্টার তৈরির জন্য বিশাল বিদ্যুৎ দরকার হবে। ট্রাম্প যেখানে তেল-গ্যাস খনন বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন, ব্রিটেন আপাতত সমাধান খুঁজছে পারমাণবিক শক্তিতে। সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যৌথ চুক্তিও করেছে।

ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্টিল রপ্তানির ওপর ২৫% শুল্ক প্রত্যাহারের আশা করেছিল। কিন্তু সেটি হয়নি। ফলে দেশটির স্টিল শিল্প আরও সংকটে পড়েছে। যদিও নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর ট্রাম্প ১০% শুল্ক ধার্য করেছেন, যা ইইউর চেয়ে কম, তবু আগের তুলনায় এটি অনেক বেশি।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কঠোর কিছু বলেননি। রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতেও কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি দেননি। শুধু বলেছেন, “পুতিন আমাকে হতাশ করেছে।” তবে চাপ বাড়ানোর কথা এড়িয়ে গেছেন।

সফরের রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ “মেক ব্রিটেন গ্রেট অ্যাগেইন” স্লোগানে এগোচ্ছেন, আর ট্রাম্প নিজে স্টারমারকে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ডানপন্থী রাজনীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।

স্টারমারের লক্ষ্য ছিল সফরকে ঝামেলাহীনভাবে শেষ করা। সেই দিক থেকে তিনি সফল। তবে ট্রাম্পের কাছ থেকে যে বড় ধরনের বাণিজ্য বা কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি আশা করা হয়েছিল, তা মেলেনি। অর্থাৎ—পম্প-প্রসেশনের বিনিময়ে ব্রিটেন পেল কেবল প্রতিশ্রুতির ঝলক, বাস্তব সাফল্য সীমিত।