আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ২০২৫ সালেই ইউক্রেন প্রায় পাঁচ লাখ সেনা হারিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলউসভের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
বুধবার মস্কোতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন বেলউসভ।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম রাশিয়ান টেলিভিশনের (আরটি) জানিয়েছে, বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।
বেলউসভ বলেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জোরপূর্বক বেসামরিক নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করেও ইউক্রেন এখন আর বাহিনী পূরণ করতে পারছে না।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, চলতি বছরে ইউক্রেন এক লাখ তিন হাজারের বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেন সাধারণ সামরিক мобিলাইজেশন ঘোষণা করে। সে সময় ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গত বছর বাধ্যতামূলক নিয়োগের বয়সসীমা ২৭ থেকে কমিয়ে ২৫ করা হয় এবং নিয়োগসংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা হয়।
তবে এই জোরপূর্বক নিয়োগ অভিযান নিয়ে দেশটির ভেতরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য রিক্রুটদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও কোথাও সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে।
ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তা ও সামনের সারির সামরিক কমান্ডারদের অভিযোগ, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সেনা নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হচ্ছে না। জনবল সংকটের কারণে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।
তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।