নিজস্ব সংবাদদাতা : দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি কিংবা বালু-জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রশাসনের জালে ধরা পড়লেন খোদ এক যুবদল নেতা।
অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটার অভিযোগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে আটক করে উপজেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন— চাঁদাবাজি, মাদক, বালু ভরাট, কিংবা ফসলি জমির মাটি লুটেরাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দেন কড়া হাতে অপরাধ দমনের। এমপির সেই বার্তার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর আসে, উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ডেমরা এলাকায় দেদারসে চলছে কৃষিজমির মাটি লুঠ। খবর পেয়েই সেখানে হানা দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা। সশরীরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন, অনুমোদন ছাড়াই বিস্তীর্ণ ফসলি জমির বুক চিরে মাটি পাচার করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যের ভিত্তিতে উঠে আসে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলিনূর হোসেনের নাম। অভিযোগ, তার নেতৃত্বেই এলাকায় মাটি কাটার এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। হাতেনাতে প্রমাণ মেলায় পুলিশ তৎক্ষণাৎ আলিনূরকে আটক করে ভ্যানে তোলে। প্রভাবশালী নেতার আটকের খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আটক করার পর ওই যুবদল নেতাকে উপজেলা সদরে নিয়ে আসা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতা এড়াতে ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কাজে আর লিপ্ত হবেন না বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি (মুচলেকা) দেন তিনি। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করে মুক্তি দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এমপির কড়া নির্দেশের পর মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন তালুকদার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে এসি ল্যান্ড স্যারের উপস্থিতে এবং নির্দেশে মোক্তারপুর ইউনিয়নের ডেমরা এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে আলী নূর নামে এক ব্যক্তিকে আমাদের গাড়িতে করে উপজেলায় আনা হয়।পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে তিনি মুক্তি পান।