গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজীপুর মহানগরীর গাছার সাতাইশ চৌরাস্তা এলাকায় দেশের একমাত্র জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন ।
বুধবার (২০ মে) তিনি দুপুর ২টায় গাজীপুরের সাতাইশ চৌরাস্তায় এই ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ও সচিব সাইদুর রহমান খানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় একটি স্মারক বৃক্ষরোপণও করেন তিনি।
জানা গেছে, সাতাইশ চৌরাস্তার ধরপাড়া এলাকায় এই ইনস্টিটিউট নির্মিত হবে। এখানে প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসিক ভবনও থাকবে। এই ইনস্টিটিউট দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের ওপর গবেষণা ও সমীক্ষা পরিচালনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা এবং ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ ফলাফলসমূহ প্রকাশ ও প্রচার করার লক্ষ্যে এ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ওপর গবেষণা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/ কর্মচারী, সেচ্ছাসেবক, আগ্রহী জনসাধারণের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোনো ইনস্টিটিউট নেই।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাতাইশ মৌজায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রেকর্ডকৃত ৮ দশমিক ২০ একর ভূমিতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ স্থাপনের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়। মাস্টার প্ল্যানের মধ্যে থেকে প্রথম পর্যায়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইনস্টিটিউটের ১০ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক কাম অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক প্রশিক্ষণের জন্য একটি ৬তলা বিশিষ্ট হোস্টেল বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।
প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ জিওবি অনুদানে মোট ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয় ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ২০২৪ সালের ৩০জুন স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভবনের স্থাপত্য নকশা ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে।