গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের তহবিল থেকে মোট এক কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবারের হাতে এই চেক তুলে দেন।
বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই তহবিল পরিচালনা করে থাকে। গাজীপুর জেলার ২৭টি পরিবার এবার এই অনুদানের আওতায় এসেছে — যাদের মধ্যে রয়েছেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা।
পঁত্রিশ বছর বয়সী সাবেক পিকআপ চালক মোঃ সেলিম গত বছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছেন। চার সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন তিনি।
চেক গ্রহণের সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “দুর্ঘটনা আমার পা কেড়ে নিয়ে পরিবারটাকে এক লহমায় রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছিল। আজ এই সহায়তা পেয়ে মনে হচ্ছে আবার সন্তানদের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারব।”
আরেক ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর পঁচিশ বছর বয়সী একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন।
অনুদানের চেক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, “সন্তানের শূন্যতা টাকা দিয়ে পূরণ হয় না। তবে এই কঠিন বিপদের দিনে সরকার পাশে দাঁড়ানোয় বাকি পরিবারটাকে নিয়ে মাথা গোঁজার একটা অবলম্বন খুঁজে পেলাম।”
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আর্থিক সহায়তা কখনো জীবনের ক্ষতি বা পঙ্গুত্বের বেদনা মুছে দিতে পারে না, তবে এটি পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।
তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের অনুরোধ করেন, এই অর্থ যেন উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করা হয় — যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে উপার্জনের পথ তৈরি হয়।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক চালক, শ্রমিক ও পথচারী সবাইকে ট্রাফিক আইন মানার এবং গতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা খাতুন, বিআরটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা প্রতি বছর উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য নিহত বা পঙ্গু হলে গোটা পরিবার তাৎক্ষণিক আর্থিক বিপর্যয়ে পড়ে। বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের এই তহবিল সেই সংকট মোকাবেলায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।