ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবির প্রদর্শনী বন্ধে প্রচার

কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসুরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেইসবুকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ফটোকার্ডে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে একটি পোস্ট দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবির প্রদর্শনী বন্ধে প্রচার

গাজীপুর কণ্ঠ, বিনোদন ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবিটির প্রদর্শনী না করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে শনিবার ছবিটির প্রদর্শনীর আয়োজন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি।

জেলার কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি প্রদর্শন না করার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে নানা পোস্ট করছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে আলোচনা–সমালোচনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। সংগঠনটি তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর আয়োজন করে। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই সংগঠনের সদস্য। এক বছর ধরে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছিলেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ২৫ মে পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে আলোচনা করে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা দেখা করে প্রদর্শনের অনুমতি নিয়েছেন।

তিনি বলেন, কিন্তু হঠাৎ ছবিটির প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট করা শুরু করেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রদর্শনের অনুমতি বাতিল করেছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’-এ প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা জানান, ঈদের ছুটিতে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সব মিলিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। তবে তারা যেভাবেই হোক, প্রদর্শনীটি করতে চান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসুরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেইসবুকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ফটোকার্ডে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, “এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি, যাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শত বছরের বেশি পুরনো মাদ্রাসা জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক জাসংবাদ মাধ্যমকে মিল বলেন, “কোনো ‘অশ্লীলতার’ প্রদর্শন হোক, আমরা চাই না। এই জেলায় কোনো হল নেই। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হলের অবসান করা হয়েছে। সেটা ফিরে আসুক, আমরা চাই না।”

কোনো ‘অশ্লীলতা’ না থাকলে প্রদর্শনীতে বাধা আছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সিনিয়ররা বিষয়টি নিয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উপদেষ্টা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল আজবীনসংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমরা যেভাবেই হোক প্রদর্শনীটি চাই। আলোচনা করে একটা সমাধানের পথ বের করা হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম এ বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমরা আলোচনাতে বসা আছি। যতটুকু মনে হচ্ছে প্রদর্শনী হবে না। তারপরেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”

অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াছমিন সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমার কাছে এসেছিল, আমি অনুমতি দেইনি।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “তারা (আয়োজকেরা) কার কাছে আবেদন করেছে, আমার জানা নেই। আবেদন করলে বা অনুমতি চাইলে আমার জানার কথা। কিন্তু এমন কোনো অনুমতির আবেদন পাইনি।”

সূত্র: বিডিনিউজ