অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে নেপালে ১৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে নেপালে ১৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

নেপালে অনলাইন স্ক্যাম (প্রতারণা) সেন্টার পরিচালনার অভিযোগে ১৫ জন বাংলাদেশি এবং চারজন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রাতোপতি জানিয়েছে, শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডুর ১৬ নং ওয়ার্ডের পাকনাজোলে অবস্থিত ‘হোটেল এস’ থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বাংলাদেশিরা হলেন- মজিদুল ইসলাম রিদয় (২৫), শফিউল ইসলাম (২২), আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের (২৬), আপন চন্দা সাহা (২২), আবুল হাসনাইন (২৬), আল শাহরিয়ার (২৪), ফয়সাল (৩০), আজাদ হোসেন (৩৫), মো. আজমাইন (১৯), তামিম হাসান সৌরভ (২০), জাকারিয়া জান্নাত (২০), শাকিল আনোয়ার (২৪), বিল্লাল রাফাত (২১), অমিত হাসান সৈকত (২৫) এবং ইসমাম হাসান স্বাধীন (৩০)। 

নেপাল পুলিশের কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একজন চীনা নাগরিকের চালানো একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ কর্মরত ছিলেন।

ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিসের মুখপাত্র ও পুলিশ সুপার রামেশ্বর কার্কি বলেছেন, ‘ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আমরা তাকে খুঁজছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার জন্য পলাতক চীনা নাগরিক থামেল এলাকার একটি পুরো হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন। হোটেলের মালিক প্রতি মাসে সাত লাখ নেপালি রুপি ভাড়ার বিনিময়ে হোটেলটি লিজ দিয়েছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশিরভাগই আগে কম্বোডিয়ায় কাজ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে বলেছেন, কম্বোডিয়ায় পরিচয় হওয়া চীনা অপারেটররা তাদের নেপালে নিয়ে এসেছে।

পুলিশ সুপার কার্কি আরও জানান, ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে এ চক্রটি ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত। এক্ষেত্রে স্থানীয় নেপালিদের নয়, বরং বাংলাদেশি এবং ভারতীয় নাগরিকেরা ছিলেন তাদের প্রধান টার্গেট।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার গ্রেপ্তার ১৯ জনকেই অভিবাসন আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদেরকে ডিপোর্ট অর্থাৎ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি, রাতোপতি