অভিষেকেই স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের চমক

৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তন আর মাত্র ৫ লাখ ৯৩ হাজার জনসংখ্যার দেশটি হতাশ করল ফেভারিট স্পেনকে।

অভিষেকেই স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের চমক

গাজীপুর কণ্ঠ, খেলা ডেস্ক 

একের পর এক আক্রমণ শাণাল স্পেন, ম্যাচ জুড়ে খেলা হলো কেপ ভার্দের অর্ধে, তাদের ডি-বক্সের আশেপাশেই থাকল বল; কিন্তু কোনোকিছুতেই আফ্রিকার দলটির মনোযোগে বিঘ্ন ঘটল না। অসাধারণ দৃঢ়তায় রক্ষণ দেয়াল মজবুত রাখল তারা। চোট কাটিয়ে ফেরা লামিনে ইয়ামাল দলের খুব প্রয়োজনে মাঠে নামলেন, তিনিও পারলেন না দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় নিতে।

আটলান্টায় মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সোমবার ‘এইচ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৭টি শট নেয় স্পেন, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। লক্ষ্যে থাকা সবগুলো রুখে দেন ভজিনিয়া, যদিও স্পেনের বেশিরভাগ শট তেমন ভয়ানক ছিল না। কেপ ভার্দ ছয়টি শট নিয়ে একটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে।

প্রত্যাশিতভাবে প্রথম মিনিট থেকে একচেটিয়া পজেশন ধরে রাখে স্পেন। বেশিরভাগ সময় খেলা হচ্ছিল কেপ ভার্দের অর্ধে, মুহূর্মুহু আক্রমণ শাণাচ্ছিলেন গাভি-তরেসরা; কিন্তু কোনোবারই আক্রমণের শেষটা হচ্ছিল না উল্লেখযোগ্য।

প্রথম ৩৫ মিনিটে তারা গোলের জন্য ছয়টি শট নিলেও, একবারও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি দলটি। প্রথম আধা ঘণ্টায় তাদের স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবাল একবারও বলে স্পর্শ করতে পারেননি; ১৯৬৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এমনটা আর কোনো ফুটবলারের ক্ষেত্রে হয়নি।

৩৯তম মিনিটে পরপর দুটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করে স্পেন, সেখানে আবার দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মার্ক কুকুরেইয়ার হেডে করা কাটব্যাক পেয়ে ফেররান তরেসের শট ক্রসবারে লাগে। ওই ফিরতি বল হেড করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, সেটা লাফিয়ে এক হাত দিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান ৪০ বছর বয়সী ভজিনিয়া।

বিরতির আগের ওই কয়েক মিনিটে স্পেনের আক্রমণের যে তীব্রতা আসে, তা দ্বিতীয়ার্ধে আবার কমে যায়। আগেরমতো আক্রমণ করতে থাকে ঠিকই, কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা।

আগের দিন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ইয়ামালকে নামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের কুলিং ব্রেকের আগে তরুণ এই সেনসেশনকে প্রস্তুত হতে দেখা যায় এবং ৭১তম মিনিটে তাকে নামান কোচ।

কিছুক্ষণ পর দানি ওলমো ও নিকো উইলিয়ামসকেও বদলি নামান দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু কেউই কোচ, দল ও দেশের মানুষের চাওয়া পূরণ করতে পারেননি। আরও বিশেষ করে বললে, বাকি সময়ে তারা কেউ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের তেমন পরীক্ষাই নিতে পারেননি।

রেফারির শেষের বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। আর কেনই বা নয়! প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, বর্তমান ইউরো জয়ী এবং এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিটদের কাছ থেকে পয়েন্ট আদায় করে নেওয়া ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বর দলটির কাছে জয়ের চেয়ে কম কী!