কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে পরিকল্পিত হত্যা, তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে পরিকল্পিত হত্যা, তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশের মুখমণ্ডল বিকৃত করে পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করেছিল আসামিরা। ঘটনায় জড়িত তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর এক আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

নিহত সাইফুল ইসলাম তুমুলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া এলাকার আলফাজ উদ্দিনের ছেলে।

গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন একই এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মো. রেজাউল করিম (৫০), আব্দুল আলী মিন্টুর ছেলে মো. নাঈম মিয়া (২৫) এবং টিউরীর মৃত শাহজাহানের ছেলে আবু তাহের (৩২)। তারা সবাই মাদক ব্যবসায়ী।

হত্যাকাণ্ডের ফেলে যাওয়া লাশ এবং নিহত সাইফুল ইসলামের এনআইডি কার্ডের ছবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে সম্পাদিত)।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদক-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিহত সাইফুল ও আসামিদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদও হয়েছিল। আসামি রেজাউল ও আবু তাহের যোগসাজশে এলাকায় মাদক বিক্রি করতেন। রেজাউলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আসামিদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, গত ২ জুন রাত দেড়টার দিকে রেজাউল, নাঈম মিয়া ও আবু তাহের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাইফুলকে ঘটনাস্থলের পাশে কলাবাগান-সংলগ্ন নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় পোঁচ মেরে এবং মাথার ডান পাশে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরিচয় গোপন রাখতে মৃতদেহের মুখমণ্ডল বিকৃত করা হয়। হত্যার পর আসামিরা লাশটি তুমুলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার সড়কে জনৈক করিমের বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের উপর ফেলে রেখে যান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যার পর আসামিদের ফেলা রাখা লাশ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এক পথচারী সড়কে পাশে পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ খবর দেন। কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মৃতদেহ শনাক্ত করে। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরদিন ৩ জুন নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম (৫৩) বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরো জানানো হয়, শুরুতে মামলার তদন্ত করেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ। পরবর্তী সময়ে বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. আবুল হাসান তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন।

গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাসংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরো জানতে…..

কালীগঞ্জে মুখে বীভৎস আঘাতে হত্যা, দুই সন্দেহভাজন পুলিশ হেফাজতে