গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
গাজীপুর জেলা যুবলীগের নতুন ঘোষিত কমিটির সহ-সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মেহেদী এইচ রনি মন্ডল। আর্থিক লেনদেন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে ২৭ জুলাই স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে তিনি সংগঠনের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও নিজেকে প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত যুবলীগ। এরই মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তবে অভিযোগ অনুযায়ী এতেও পুরোনো চিরচেনা বিতর্কই রয়ে গেছে।
পদত্যাগপত্রে মেহেদী এইচ রনি মন্ডল উল্লেখ করেন, যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল। তার অভিযোগ, ন্যায়বিচার ও যোগ্যতার মূল্যায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পক্ষপাতিত্ব, আর্থিক লেনদেন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে, যাতে তিনি হতাশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট মতাদর্শের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদেরও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
মেহেদী এইচ রনি মন্ডলের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গাজীপুর জেলায় সংগঠনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে তিনি মোট ৪১টি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সংগঠনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামিও হয়েছেন বলে তিনি জানান, তবে নানা প্রতিকূলতা, হয়রানি ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখেও কখনো সংগঠনের কার্যক্রম থেকে সরে যাননি বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য, ইউনূস সরকারের আমলে যখন অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাননি, তখন তিনি রাজপথে মিছিল-মিটিং করে কর্মীদের নিয়ে “জয় বাংলা” স্লোগান মুখরিত করেছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, কমিটি গঠনে ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শের পরিবর্তে অন্য বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হলে একজন আদর্শনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আত্মসম্মানের পরিপন্থী। তাই ব্যক্তিগত আত্মমর্যাদা, নৈতিক অবস্থান ও আদর্শগত কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতে সংগঠন ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে তার আদর্শিক অবস্থান আরও সুসংহত করবে।
ঘোষিত কমিটির তালিকায় ৪৮ নম্বরে থাকা রনি মন্ডলকে ৫ নম্বর সহ-সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছিল।
নতুন কমিটি নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
এর আগে ২৬ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সেলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল-এর যৌথ স্বাক্ষরে ২৬ জুলাই (রবিবার) গঠনতন্ত্রের ধারা-২৩ অনুযায়ী গাজীপুর জেলা শাখার পূর্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী তিন বছরের জন্য সেলিম আজাদকে সভাপতি এবং ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
নতুন কমিটিতে রয়েছেন ১১ জন সহ-সভাপতি, ৩ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৫ জন সাংগঠনিক সম্পাদক, ২২ জন সম্পাদক, ২০ জন সহ-সম্পাদক এবং ২১ জন সদস্য।
কমিটির তালিকায়ও গরমিল
৮৫ সদস্যের কমিটির কথা বলা হলেও তালিকায় মোট ৮৪ জনের তথ্য রয়েছে। ৪০ নম্বরে থাকা মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে কারও নাম না লিখে ফাঁকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় ৭১ নম্বর না লিখে সরাসরি ৭২ নম্বর লেখা হয়েছে, যাতে আরও একজনের নাম বাদ পড়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।