গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
জুলাই অভ্যুত্থানের পর কাশিমপুর কারাগার ভেঙে পালানো এক আসামিকে দীর্ঘ পলাতক জীবনের পর গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাব। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামির নাম মোয়াজ্জেম হোসেন, বয়স ৩০। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে।
শনিবার (০১ আগস্ট) কুমিল্লার তিতাস উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১-এর সিপিসি-২ অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা এই আসামি ঢাকার মতিঝিল থানার একটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত।
সময়টা ছিল ২০২৪ সালের ৬ অগাস্ট — আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন। ওই সময় কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দিদের মধ্যে দাঙ্গা বেধে যায়। কারারক্ষীদের জিম্মি করার চেষ্টায় লকআপের গেইট ভেঙে ফেলেন বন্দিরা, এমনকি সিঁড়ির লোহার রেলিং খুলে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। র্যাব কর্মকর্তার ভাষ্যে, এই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন কারারক্ষী গুরুতর জখম হন — আর সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই বেরিয়ে যান মোয়াজ্জেমসহ আরও কয়েকজন কয়েদি।
পালানোর পর কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি এলাকায় পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দেন মোয়াজ্জেম। সেখানে দিনমজুরি করে চলছিল তার দিন। র্যাবের দাবি, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সাহায্যে শেষ পর্যন্ত তার লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজে বের করা হয়।
২০১৪-১৫ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৮ সালে আদালত মোয়াজ্জেমকে মৃত্যুদণ্ড দেন। কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় পৃথক আরেকটি মামলাও হয়েছিল, সেখানেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে র্যাব। আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে কোনাবাড়ী থানায় সোপর্দ করা হবে।