গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পরপর দুই দিনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বেরোবিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে জবি ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিবিরের একদল নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে ঢোকার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়ায়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের একটি অনুষ্ঠানে পৌঁছালে সংঘর্ষ বাধে।
এই ঘটনায় জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিম আরিফ এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবির সদস্যদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা এখন শান্ত।
সোমবার সন্ধ্যায় বেরোবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে একটি ব্যানার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং শেষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন।
প্রশাসনের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, ৩ আগস্টের এই সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন, যাঁরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একই ঘটনার জেরে আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুই সংগঠন একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিলে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান তাজহাট থানার ওসির কাছে ১৪৪ ধারা জারির অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদন করেন। এর ভিত্তিতে আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করে।