‘র’ প্রধানের সফর নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কিছু নেই: তথ্য উপদেষ্টা

“এটা পররাষ্ট্রনীতিতে বলা হয়, বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না। সো আমাদের তো আসলে এনগেজ করতে হবে,” বলেন জাহেদ উর রহমান।

‘র’ প্রধানের সফর নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কিছু নেই: তথ্য উপদেষ্টা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর নিয়ে অযথা ‘জল্পনা-কল্পনা’ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলছেন, বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধান যেমন কিছুদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন, সেরকম সরকারি সফরে ‘র’ প্রধান এবার ঢাকায় এসেছেন। এটা দুই প্রতিবেশী দেশের স্বাভাবিক যোগাযোগের অংশ।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে মঙ্গলবার (১১ অগাস্ট) তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিন বলেন, “র-এর যিনি এসেছেন, প্রধান এসেছেন, তাকে নিয়ে প্রচুর স্পেকুলেশন দেখছি। তিনি চায়না থেকে ঢাকায় এসেছেন। এটাও তার এক ধরনের সফর এবং আমাদের যে কাউন্টারপার্ট আছে তার সাথে বসবেন।

“সরকার যদি মনে করে সেই সফরের পর কোনো একটা স্টেটমেন্ট হয়ত দেওয়া হবে। কিন্তু এটা নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “অনেকে এমন ভাব করছেন, যে গোপন। (অথচ) সবাই সব জানেন, পত্রিকায় সব চলে এল। কিন্তু এরকম কথা নেই, কোনো ব্যাপারই নেই, যেমন আমাদের যিনি গোয়েন্দা প্রধান আছেন তিনি তো ভারতে গিয়েছিলেন।”

পরাগ জৈন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (আরএডব্লিউ বা র) সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার মধ্যে গত রোববার দুপুরে তিনি সরকারি সফরে ঢাকা পৌঁছান। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটা কথা আমি তো আমি, একটু ক্লিয়ার করতে চাই, জনাব ত্রিবেদী, (দীনেশ ত্রিবেদী) হাই কমিশনার কিন্তু তার বক্তব্যে এই কথাটা বলেছেন, যে কথাটা আমরা সবসময় বলি, আমাদের তো প্রতিবেশী পাল্টানো যাবে না।

“এটা পররাষ্ট্রনীতিতে বলা হয়, বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না। সো আমাদের তো আসলে এনগেজ করতে হবে।”

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘ঠিকঠাক’ করার প্রত্যাশা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের নতুন করে আমাদের সম্পর্ক রিঅ্যালাইন—আমি বারবার রিঅ্যালাইনমেন্টের কথা বলছি। কারণ আগে যেভাবে ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছে, টু সাম পার্টি অর টু সাম পার্সন, স্পেসিফিক্যালি একজন মানুষের প্রতিই তারা সম্পর্ক করতে চেয়েছে, সেটা না হয়ে এখন জনগণের সাথে হতে হবে।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, “ভারতের বক্তব্যে আমরা অন্তত এই আলাপটা এখন দেখছি, তারা জনগণের সাথে সম্পর্কের কথা বলছেন। সুতরাং সেটা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, তাদের যেসব কাউন্টারপার্ট যারা আছে, তাদের মধ্যে এনগেজমেন্ট, তাদের মধ্যে কথাবার্তা এগুলো তো হতে হবে।

“ব্যাপারটা হচ্ছে এই, ভারতের কোনো সংস্থা, কোনো প্রতিষ্ঠান আগে যেভাবে বাংলাদেশে কাজ করেছে—আমি হাসিনার আমলের কথা বলছি—যে ধরনের অ্যাটিটিউড করেছে, সেটা হতে পারবে না, আমরা আলাপ করছি সেটা।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “একটা স্বাধীন, সার্বভৌম, আত্মমর্যাদাশীল জাতির সাথে যেভাবে আচরণ করতে হয়, কথা বলতে হয়… ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। কিন্তু ওই যে বললাম, দুটো স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ আলাপ করছে, এভাবে এটা হতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তথ্য দেন উপদেষ্টা জাহেদ।

তিনি বলেন, “সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্র্যাকটিস করায় এক চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।”

সড়ক যোগাযোগ খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “উত্তরাঞ্চলের সড়ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে বগুড়ায় নতুন সড়ক জোন চালু করা হয়েছে; যা বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের সড়ক ট্রাফিক পরিচালনা করবে।”

একই সঙ্গে গত ৮ আগস্ট বগুড়ায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত শাহ ফতেহ আলী সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি৷

এই সেতু সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও ধুনট উপজেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করবে বলে তার ভাষ্য।

জাহেদ উর রহমান জানান, রেলওয়ে বিভাগে গত ১০ আগস্ট থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে নতুন ৬৩০ আসনের ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন চালু করেছে।

জ্বালানি খাত নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করা হচ্ছে।

“একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে সংকটকালে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করাই এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অগ্রগতিও তুলে ধরেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বিডিনিউজ