ইরানের ভয়ে খাবারের কার্টে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ একটি কার্টে করে বিমানটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়।

ইরানের ভয়ে খাবারের কার্টে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে দেশটি থেকে সরিয়ে নেয় হোয়াইট হাউস। ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্প ও এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে নিরাপত্তা হুমকি থাকায় তাকে খাবার পরিবহনের কার্টে করে একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয় বলে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন।

তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি বিমানে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। ক্যামেরার সামনে তাকে ওই বিমানে চড়তেও দেখা যায়।

কিন্তু সেটি ছিল আসলে একটি ছদ্মবেশী ব্যবস্থা। ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ একটি কার্টে করে বিমানটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়। পরে গাড়িতে করে তাকে আরেকটি বিমানে নেওয়া হয়। ওই তৃতীয় বিমানেই গোপনে যুক্তরাজ্যে যান তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্টও এর আগে গোপন এই অভিযানের খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে বহনকারী তৃতীয় বিমানটি ছিল সি-৩২এ, যা বোয়িং ৭৫৭-এর একটি সামরিক সংস্করণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। প্রতিরক্ষা দপ্তরও সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের ফেরার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। 

তিনি বলেছিলেন, ‘সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে টার্গেট বানিয়েছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় (বিভ্রান্তি তৈরি ও ভুল পথে পরিচালিত করার কৌশল) ব্যবহার করি।’

ট্রাম্পকে গোপনে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের হুমকিকে গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন। এ কারণে হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদেরও বিভ্রান্ত করে। সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, ট্রাম্প যে বিমানে উঠেছিলেন, সেটিতেই তিনি তুরস্ক ছাড়বেন। কিন্তু ওই বিমানটি আসলে ছিল একটি ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্ত করার কৌশল।

তবে হুমকিটি কাতারের দেওয়া নির্দিষ্ট ওই বিমানের বিরুদ্ধে ছিল না। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প যে বিমানেই ভ্রমণ করতেন, সেটিই সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারত।

ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পরদিন সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিবৃতিতে চেউং বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান। প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।’