এবার পুলিশ পদক পাচ্ছেন মাত্র ১১৮ জন!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পুলিশ সপ্তাহের আয়োজনে সাহসিকতা ও সেবার জন্য মোট চারটি ক্যাটাগরিতে এবার মাত্র ১১৮ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হবে। যার মধ্যে বিপিএম সাহসিকতা পাচ্ছেন ১৪, বিপিএম সেবা ২৮, পিপিএম সাহসিকতা ২০, পিপিএম সেবা ৫৬ জন।

তবে গত বছর ২০১৮ সালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় রেকর্ড সংখ্যক পুলিশ সদস্য (৩৪৯ জন) পদক পান।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, গত বছর রেকর্ড সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ার পর, এবার এই সংখ্যা এক শ’র মধ্যে সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাই চলতি বছর পদক দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ছাড়া অন্যদের এই তালিকার বাহিরে রাখা হয়েছে।

তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে ১৩২, ২০১৬ সালে ১২২, ২০১৫ সালে ৮৬ এবং ২০১৪ সালে ১০৫ জন কর্মকর্তাকে বিপিএম-পিপিএম পদক দেওয়া হয়।

এদিকে অভিযোগ আছে নির্বাচনে ‘বিশেষ ভূমিকা’র কারণে ২০১৯ সালে হঠাৎ দ্বিগুণ বাড়িয়ে একযোগে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ (এসপি) ৩৪৯ জনকে বিপিএম-পিপিএম পদক দেওয়া হয়। কিন্তু এবার ৬৪ পুলিশ সুপারের জায়গায় শুধু একজন পুলিশ সুপার সেই পদক পাচ্ছেন।

কমে যাওয়া পুলিশ পদক সম্পর্কে জানতে চাইলে, সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পদক পাচ্ছেন যারা

ঢাকা মেট্রোপলিনট পুলিশ, ডিএমপি: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার জামিল হাসান, উপ-কমিশনার শ্যামল কুমার মুখার্জী, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান, ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ, ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার রাজীব আল মাসুদ, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আর এম ফয়জুর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরিফুল ইষলাম, ডিবি পূর্ব বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আতিকুল ইসলাম, ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ, ডিএমপির গেন্ডারিয়া থানার ওসি সাজু মিয়া, ডিএমপির আরওআই কাইয়ুম শেখ, শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান, ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, শ্যামপুর থানার এসআই সোহাগ চৌধুরী ও এএসআই মাসুম বিল্লাহ।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট: কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মিশুক চাকমা, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এস এম নাজমুল হক, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহফুজা লিজা, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহসান হাবীব, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার অহিদুজ্জামান নুর, সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ, পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ, এসআই আশুতোষ শীল, এএসআই সোলাইমান হোসেন, নায়েক মোহাম্মদ রাসেল মিয়া ও কনস্টেবল সালমান হাজারী।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন : র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাব এর মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, সদর দফতরের লে. কর্নেল মীর আসাদুল আলম, পরিচালক (গোয়েন্দা) লে. কর্নেল মাহাবুব আলম, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ নূরুস সালেহীন ইউসুফ, র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ,র‌্যাব-২ এর পুলিশ সুপার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার মেজর শাহীন আজাদ, র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের উপ-পরিচালক মেজর এস এম সুদীপ্ত শাহীন, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার মেজর মনিরুল ইসলাম, মেজর মাহমুদ হাসান তারিক, র‌্যাব-৮ এর মেজর খান সজিবুল ইসলাম, র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন, র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদ আহম্মেদ, র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন ও সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্স এর সার্জেন্ট শহীদুল ইসলাম ও র‌্যাব-১ এর সৈনিক রাকিব হোসেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি মহাবুবুর রহমান ভুইয়া, এআইজি এ এফ এম আনজুমান কালাম, এআইজি তামান্না ইয়াসমীন, এআইজি মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, এআইজি মিলন মাহমুদ, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল হুদা আশরাফী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ নেওয়াজ রাজু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম, পরিদর্শক জিয়াউর রহমান ও এসআই সোহাগ মিয়া।

স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ, এসবি: পুলিশের বিশেষ শাখা- এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, বিশেষ পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, বিশেষ পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ পরিদর্শক কাওছার আহম্মেদ, পরিদর্শক ইউনুস আলী শেখ, এসআই মনিরুজ্জামান ও এএসআই মোহাম্মদ মোহন মিয়া।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই): পিবিআই এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার, পিবিআই যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন, পিবিআই ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পিবিআই গাজীপুর জেলার পরিদর্শক হাফিজুর রহমান ও পিবিআই ফেনী জেলার পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম।

র‌্যাব পুলিশের খুলনা রেঞ্চের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, ১১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান এর অধিনায়ক শাহীন আমীন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ- জিএমপির উপ-কমিশনার কে এম আরিফুল হক ও জিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশণার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মনজুর রহমান, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) আরিফুর রহমান মন্ডল, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম, গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান, এসএসএফ এর এএসপি মিরাজুল ইসলাম, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা, বরিশাল হিজলা নৌপুলিশের পরিদর্শক বেলাল হোসেন, শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানার ওসি মেহেদী হাসান, বাগেরহাটের পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ কেপায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ- সিএমপির পুলিশ পরিদর্শক রাজেসব বড়ুয়া, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এইচ এম আব্দুর রহমান মুকুল, সিআইডির পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেন, চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুরের তাজহাট থানার এসআই মামুনুর রশীদ, ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আক্রাম হোসেন, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ফিরোজ সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই ইসমাতারা, সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ইয়াছিন আরাফাত, মানিকগঞ্জ সিংগাইর থানার এসআই আল মামুন, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই জুলহাজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ তাড়াইল থানার এসআই রাজীব আহম্মেদ, টাঙ্গাইল দেলদুয়াল থানার এসআই হারুন অর রশিদ, বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ওয়াদুদ আলী, ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই বিলায়েত হোসেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই মাইনুল ইসলাম, বগুড়া শেরপুর থানার এএসআই নান্নু মিয়া, চাপাইনবাবগঞ্জ ডিবির এএসআই বিকাশ চন্দ্র সরকার, বগুড়া ডিবির এএসআই রানা হামিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার এএসআই আনোয়ার হোসেন, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিওয়েন এএসআই মরহুম আক্তার হোসেন, ঝিনাইদহ জেলার এএসআই শরিফুল ইসলাম, নৌ পুলিশ ঢাকার কনস্টেবল জীবন সিকদার ও খাগড়াছড়ির মহালছড়ির ৬ এপিবিএন- এর কনস্টেবল ফয়সাল আহমেদ।

বিপিএম সাহসকিতার জন্য এককালীন এক লাখ টাকা ও প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে দেড় হাজার টাকা, বিপিএম সেবার জন্য এককালীন ৭৫ হাজার টাকা ও প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

আবার পিপিএম সাহসিকতার জন্য এককালীন ৭৫ হাজার টাকা ও প্রতিমাসে দেড় হাজার টাকা এবং পিপিএম সেবার জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা ও প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

সূত্র: বার্তা২৪

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button