গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালিয়াকৈরে এক নিরীহ পরিবারকে নির্যাতনের অভিযোগে কালিয়াকৈর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাফর আলীকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু বদলি আদেশের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বুধবার পর্যন্ত তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।
জানা গেছে, উপজেলার জালশুকা এলাকার এক নিরীহ পরিবারকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে কালিয়াকৈর থানার এসআই জাফর আলীসহ কয়েকজন পুলিশের বিরুদ্ধে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ওই ঘটনাটি তদন্ত করা হয়। পরে ওই ঘটনার ১৭ দিন পর গত ২ ফেব্রুয়ারি এসআই জাফর আলীকে কাপাসিয়া থানায় বদলি করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার। কিন্তু বদলি আদেশের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও ক্ষমতার দাপটে তিনি এখনও (বুধবার পর্যন্ত) কালিয়াকৈর থানায় অবস্থান করছেন। এ নিয়ে এলাকায় ও থানায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে এসআই জাফর আলী বলেন, আমি একটি মামলার স্বাক্ষী দিতে শেরপুরে গিয়েছিলাম। এখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আছি। তবে বদলির আদেশের কথাটি শুনেছি।
গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ জানান, এসআই জাফর আলীকে জেলার কাপাসিয়া থানায় বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তার কাছে থাকা মামলাগুলো অন্য কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি নতুন কর্মস্থলে যাবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি এসআই জাফর আলীসহ কয়েকজন পুলিশ সাদা পোশাকে কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের জালশুকা এলাকায় মৃত হাসান আলীর বাড়িতে গিয়ে মামলা বা গ্রেফতারি পরওয়ানা ছাড়াই শাহীন আলমকে আটক করেন। এক পর্যায়ে তারা পাঁচ বছরের শিশু হাসিবুল হাসানের সামনেই নানি ছবি বেগম, মা হাসিনা, খালা বকুল ও মামা আলমকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পুলিশ ওই শিশু ও তাদের পরিবারের সবাইকে থানায় ধরে নিয়ে যায়। পর দিন শাহীন আলমকে পুরোনো গরু চুরি মামলা ও আলমের মা সুফিয়া আক্তার ছবি, দুই বোন হাসিনা আক্তার ও বকুল আক্তারের নামে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে গাজীপুর কোর্ট হাজতে পাঠান। তাদের সঙ্গে শিশু হাসিবুলকেও পাঠানো হয়।