গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জের জামালপুরে এক অটোচালকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও অটোরিকশা ভাঙচুর করে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের এক নেতা ও তার সেনা সদস্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
গত ২ মে (রোববার) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন দুপুরে থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ”ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।”
তবে পুলিশ বলছে, ”প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম (২৮)। তিনি জামালপুর গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে। পেশায় তিনি আটোরিকশা চালক।
অভিযুক্তরা হলো, জামালপুর গ্রামের মৃত শাহজাহান মোড়লের ছেলে সেনা সদস্য আলমগীর হোসেন (৪৫), যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন, (২৬) ও তাদের বোন হামিদা বেগম (৩৫) এবং তাদের মা হাজেরা বেগম (৬৫), এছাড়াও একই এলাকার আবুল হোসেন মোড়লের ছেলে মোস্তফা মোড়ল (৪৫)।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন সেনা বাহিনীর (ওআর-৪) কর্পোরাল পদে কর্মরত। তার ভাই সাখাওয়াত হোসেন জামালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ”অভিযুক্তরা পূর্ব শত্রুতার জেরে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামকে ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিলো। গত ২ মে সকাল নয়টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার ঘরের আসবাবপত্র ও একটি আটোরিকশা ভাঙচুর করে। এরপর ঘরে থাকা আলমারী ভেঙ্গে নগদ ১ লাখ ৭৫ টাকা নিয়ে যায়। সে সময় অভিযুক্তদের বাঁধা দিলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম, তার ভাই রফিকুল ও ভাইয়ের ছেলে নাহিদ ইসলামকে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।”
জামালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল বলেন, ”সাখাওয়াত হোসেন ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন”।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর হামলা, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।”
অভিযুক্ত সেনা সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করেছে। উল্টো তারাই আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।”
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেনি।
অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, “অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”