সীমান্তে আরও সেনা বাড়াল ভারত

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন আমি ‘পাকিস্তান’কে পাকিস্তানের ভাষায় জবাব দেওয়া পছন্দ করব।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও এয়ার স্ট্রাইকে নিজের কথা রেখেছেন মোদি। এবার চীনের পালা। চীন সীমান্তে এতদিন রক্ষণাত্মক নীতি ছিল ভারতের।

সেখান থেকে সরে ‘অফেন্সিভ ডিভেন্স’ বা আক্রমণাত্মক-রক্ষণ নীতি নিচ্ছে ভারত। এবার আর শুধু নিজেদের সীমান্তরক্ষা নয়। প্রয়োজন পড়লে চীনে ঢুকে জায়গার দখল নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ভারত।

গত কয়েক মাসে সীমান্তে আরও ৫০ হাজার সেনা বাড়াল দিল্লি। এই নিয়ে প্রায় ২ লাখ সেনা মোতায়েত করল ভারত। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাফায়েলের মতো ভয়ংকর যুদ্ধবিমানও। কিন্তু কেন হঠৎ করে সীমান্ত নীতি পরিবর্তন এবং সেনা বৃদ্ধি-মার্কিন দৈনিক ব্লুমবার্গের এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি মোদি দপ্তরের সেনা মুখপাত্র।

কংগ্রেস আমলে (১৯৬২ ) চীন যুদ্ধে প্রস্তুতিহীন ভারতীয় সেনাকে পিছু হঠতে হয়। তারপর থেকে বহুবছর চীনের আক্রমণ প্রতিহত করার নীতি নিয়েই আকসাই চীন থেকে অরুণাচলে সেনা মোতায়েন করত ভারত। ভারতের সীমানায় চীনা অনুপ্রবেশে বাধা দিত ভারত।

সেনাবাহিনীকে সেরকমই রক্ষনশীল নীতির নির্দেশ থাকত দিল্লির। মোদির ‘নতুন ভারত’ ‘সীমান্ত নীতি’ কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই চীন নিয়ে দেশের রক্ষণশীল নীতির বিরোধিতা করতেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি সরকার কেন্দ্রে আসার পর ডোকলামে চীনা সেনাকে পিছু হঠতে বাধ্য করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

আন্তর্জাতিক মানচিত্রে যা ভারতের নীতি অনেকটাই স্পষ্ট করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে গালওয়াল ভ্যালির ভারত-চীন সংঘর্ষ বুঝিয়ে দিয়েছি এবার শুধু প্রতিরোধ নয় পালটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। ২০১৪ থেকে ধাপে ধাপে চীন সীমান্তে সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র বাড়িয়েছে ভারত। এ গত বছরই ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ঞ-৯০ ট্যাঙ্ক, ভীষ্মকেও চীন সীমান্তে এনেছিল ভারত।

জম্মুতে এবার সেনা আকাশে ড্রোন ২৫ রাউন্ড গুলি চালাল সেনা : নজরদারি এড়িয়ে বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে একদিন আগেই।

এবার রাতের অন্ধকারে জম্মুর সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ল পর পর দুটি ড্রোন। তবে মারাত্মক কিছু ঘটে যাওয়ার আগেই বিষয়টি নজরে পড়ে সেনাসদস্যদের। ড্রোন দুটিকে নিষ্ক্রিয় করতে গুলি চালান তারা। তবে ড্রোন দুটির নাগাল মেলেনি। সেনাবাহিনীর গুলিবৃষ্টি শুরু হতেই সেগুলো অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

ড্রোন দুটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা। জম্মু-পাঠানকোট জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কালুচক পুরমণ্ডল রোডে সেনাঘাঁটি রয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রথন ড্রোনটিকে সেনাঘাঁটির উপরে চক্কর কাটতে দেখা যায়। সেদিকে নজর পড়তেই টহলরত সেনাসদস্যরা সতর্ক হয়ে যান। ড্রোনটিকে নিষ্ক্রিয় করতে গুলি চালান। তাতেই অন্ধকারে মিশে যায় ড্রোনটি। এর পর রাত দেড়টা নাগাদ ফের একটি ড্রোন সেনাঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে।

সেবারও গুলি করেই সেটিকে তাড়ানো হয়। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ড্রোন দুটিকে লক্ষ্য করে ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

সোমবার সকাল পর্যন্ত দুটি ড্রোনের একটিরও হদিশ মেলেনি। সেনাঘাঁটি এলাকা এবং তার আশেপাশে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

এর আগে, শনিবার গভীর রাতে জম্মু বিমানবন্দরে ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটিতে হামলা চালায় দুটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন। তাতে দুজন বায়ুসেনা কর্মী জখম হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বায়ুসেনার প্রযুক্তি বিভাগ সংলগ্ন একটি ভবন। কে বা কারা ড্রোন দুটি পাঠিয়েছিল, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে তা জানা যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button