গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া প্যানডোরা পেপারসে নাম এসেছে ৭০০ এর বেশি পাকিস্তানির। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কারণ অবৈধ লেনদেনের তথ্য ফাঁস করা ওই নথিতে নাম এসেছে তার মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, সিনেটর, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, মিডিয়া হাউজের মালিক ও ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা সরাসরি ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
সোমবার (৪ অক্টোবর) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যানডোরা পেপারসে পাকিস্তানের প্রভাবশালীদের মধ্যে নাম রয়েছে অর্থমন্ত্রী শওকত তারিন, পানিসম্পদমন্ত্রী মুনিস এলাহি, সিনেটর ফয়সাল ভাওদা, মুসলিম লিগ (এন) নেতা ইশহাক দারের ছেলে আলি দার, পিপিপি নেতা শারজিল মেমন, শিল্পমন্ত্রী খুসরো বখতিয়ারের পরিবার, পিটিআই নেতা আব্দুল আলিম খান প্রমুখের। এদের মধ্যে অনেকেই ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী সব নেতা, ধনকুবের, বিনোদন জগতের তারকা, ক্রীড়াবিদদের গোপন আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের বিপুল পরিমাণ নথি ফাঁস করেছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিআইজে। এসব নথির নাম দেওয়া হয়েছে প্যানডোরা পেপারস। গার্ডিয়ান, বিবিসিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রায় এক কোটি ১৯ লাখ নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্যান্ডোরা পেপারস থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠদের অনেকে গোপনে অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। সেই তালিকায় আছেন মন্ত্রিসভার সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য এবং প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষকেরা।
প্যানডোরা পেপারসে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার নাম আসার জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দল মুসলিম লিগ (নওয়াজ)। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব আহসান ইকবাল বলেছেন, প্যানডোরা পেপারসে ইমরান খানের নাম ছড়ানোয় আর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইমরান খান নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের চ্যাম্পিয়ন দাবি করেন, অথচ নিজেই বিদেশি উপহারের তথ্য গোপন করেছেন।
এদিকে বিরোধীরা পদত্যাগ দাবি করলেও ইমরান খান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্যানডোরা পেপারসে নাম আসা সব পাকিস্তানি নাগরিকের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তিনি বলেছেন, কোনো অন্যায় হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিজাতদের বেআইনি অর্থপাচারের তথ্য সামনে আনায় প্যানডোরা পেপারসের তদন্তকারীদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদাহরণ দিয়ে ইমরান খান বলেছেন, এটি যেভাবে ভারতের সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল, এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের শাসকগোষ্ঠীগুলোও একই কাজ করছে। দুর্ভাগ্যবশত ধনী রাষ্ট্রগুলো এই বিশাল লুটপাট প্রতিরোধ বা লুটের অর্থ ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।