পূর্বাচল শহরের জন্য স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ চায় রাজউক, থানা স্থাপনের জন্যও দেওয়া হবে চিঠি
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ বা পৌরসভা চায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রকল্পে বিভিন্ন অবকাঠামো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন না থাকায় সব ধরনের কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজউকের নিয়ন্ত্রণাধীন আলাদা শাখা/স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ না থাকায় বাস্তবায়ন মেয়াদকালের পর উন্নয়নমূলক কাজ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের রাজউকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আলাদা শাখা বা স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন অত্যন্ত জরুরি। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। এ ছাড়া পূর্বাচলে থানা স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকেও চিঠি দেওয়া হবে। রাজউক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজউকের নথিপত্রের তথ্যমতে, রাজধানী ঢাকা শহরের অতিমাত্রিক জনসংখ্যার চাপ হ্রাস ও আবাসন সমস্যা প্রকট। এ সমস্যা সমাধান ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আদর্শ আবাসিক শহর গড়ে তুলতে রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ১৯৯৫ সালে এ প্রকল্প তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের জন্য গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ৬ হাজার ১৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে মামলাসহ নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০০২ সালে। প্রকল্পে প্রায় ২৬ হাজার প্লট রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেখানে ১৫ লাখ মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা হবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল কয়েক দফা বৃদ্ধির পর ২০২১ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জুলাই মাস পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার কাজ চলছে।
রাজউকের নথিপত্রে বলা হয়, প্রকল্পটিতে ৩১৯ দশমিক ২৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৬৪০ কিলোমিটার ড্রেন, ৫৬টি ব্রিজ, ৪৩ কিলোমিটার লেক ও খাল, ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধসহ অবকাঠামো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে। প্রকল্প এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন না থাকায় প্রকল্পের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজউকের নিয়ন্ত্রণাধীন আলাদা শাখা/স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ না থাকায় বাস্তবায়ন মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের রাজউকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আলাদা শাখা বা স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন অত্যন্ত জরুরি। এর পরই বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ৮ম সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজউকের অধীন একটি আলাদা শাখা বা স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়।
জানা গেছে, পিআইসি সভার মতামতের পর এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য রাজউকের সাধারণসভায় উপস্থাপন করা হয়। রাজউক চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজউকের ৫/২১তম বোর্ডসভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় বলা হয়, পূর্বাচল শহর এলাকায় থানা স্থাপনের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো থানা স্থাপন করা হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে থানা স্থাপনের জন্য জননিরাপত্তা বিভাগকে অনুরোধ করা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিত অপরাধজনক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। প্রকল্প এলাকায় চুরি বেড়েছে। অসাধু ব্যক্তিরা প্রকল্পের মাটি নিয়ে যাচ্ছে। প্লটের দেয়াল ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। সভায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য একটি আলাদা শাখা বা স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, রাজউকের বোর্ডসভায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সেখানকার উন্নয়নকাজের রক্ষণাবেক্ষণে স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ/পৌরসভা গঠনের বিষয়ে সরকার বরাবরে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে একটি থানা স্থাপনে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাজউকের প্রধান প্রকৌশলীর (বাস্তবায়ন) দপ্তর এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।



